ওয়াকফ বলতে সাধারণত কোন মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয় কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি চিরস্থায়ীভাবে উৎসর্গ করে নিজের সত্যের বিলোপ সাধন করা বুঝায় , যিনি এই ভাবে ওয়াকফ করে তাকে ওয়াকিফ বলে ।
১৯১৩ সালের মুসলমান ভ্যালি ডেটিং অ্যাক্ট ও ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ওয়াকফ বলতে ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্ম পালনকারী কোন ব্যক্তি কর্তৃক স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির স্থায়ী উৎসর্গীকরণ বুঝায় ।
ইমাম আবু হানিফার মতে , ওয়াকফ এর অর্থ হল কোন নির্দিষ্ট বস্তুতে ওয়াকিফের মালিকানা আটক করে তারা আয় দরিদ্রদের জন্য দান বা অপর কোন নেক উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা ।
বৈধ ওয়াকফর জন্য নিম্নলিখিত শর্ত বলি পূরণ করা অবশ্যক :
১ । নাম্বারে বৈধ উদ্দেশ্য : ওয়াকফ এর উদ্দেশ্য ইসলামী আইন অনুসারে স্বীকৃত হতে হবে যথা মসজিদ নির্মাণ , সরাইখানা নির্মাণ ,মাদ্রাসা নির্মাণ ইত্যাদি |
২ । নাম্বারে স্থায়ী উদ্দেশ্য : ওয়াকফ এর উদ্দেশ্য স্থায়ী হতে হবে সীমিত সময়ের জন্য কোন ওয়াকফ বৈধ হবে না |
৩ । নাম্বারে নির্দিষ্টতা : ওয়াকফের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট হতে হবে কোন রূপ অনিশ্চয়তা বা অনির্দিষ্টতা ওয়াকফ টিকে বাতিল করে দিবে ।
৪ । নাম্বারে সম্পত্তিটি ওয়াকিফের হতে হবে : যে সম্পত্তি ওয়াকফ করা হবে তা ওয়াকিফের মালিকানাধীন হতে হবে সম্পত্তির মালিক ছাড়া অন্য কেউ ওয়াকফ করতে পারে না ।
৫ । নাম্বারে ওয়াকিফের যোগ্যতা থাকতে হবে : ওয়াকিবকে অবশ্যই সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী মুসলমান হতে হবে ।
৬ । নাম্বারে শর্ত মুক্ত : ওয়াকফ সকল প্রকার শর্ত মুক্ত হতে হবে শর্তাধীন ওয়াকফ বৈধ বলে গণ্য হবে না ।
৭ । নাম্বারে রেজিস্টিকৃত : সম্পত্তির মূল্য ১ শত টাকা বা তার থেকে বেশি হলে তা রেজিস্টি করা বাধ্যতামূলক ।