বাংলাদেশে জমিজমা বন্টন হয় মূলত মুসলিম ফারায়েজ ও ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী , তবে নানার আগে মা মারা গেলে সম্পত্তির ওয়ারিশ দৌহিত্ররা হবে , এটি মূলত ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়।
এই আইনের মূল বক্তব্য :
এই আইনের মূল বক্তব্য হচ্ছে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Principle of Representation) স্বীকার করে , আর এই জন্য নানার আগে বা নানির আগে মাতা মারা গেলে দৌহিত্ররা সম্পত্তি পাইবে , আবার দাদার আগে বা দাদি আগে বাবা মারা গেলে নাতিরা সম্পত্তি পাইব।
আইনটির বিশ্লেষণ :
আইনটির বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে , দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় বাবা মারা গেলে নাতিরা দাদার সম্পত্তি পাইবে , আবার দাদি জীবিত থাকা অবস্থায় বাবা মারা গেলে নাতিরা দাদির সম্পত্তি পাইবে , আবার নানা জীবিত থাকা অবস্থায় মা মারা গেলে দৌহিত্ররা নানার সম্পত্তি পাইবে , আবার নানি জীবিত থাকা অবস্থায় মা মারা গেলে দৌহিত্ররা নানীর সম্পত্তি পাইবে ।
দৌহিত্ররা কি পরিমান সম্পত্তি পাইবে :
উল্লেখ থাকে এই যে , নানার কন্যা বা দৌহিত্রদের মা জীবিত থাকা অবস্থায় যতোটুকু সম্পত্তি পাইতো ঠিক ততটুকু সম্পত্তি দৌহিত্ররা নানা সম্পত্তি হইতে পাইবে ।
আইনটির বিশেষ দিক :
আইনটির বিশেষ দিক হচ্ছে বঞ্চিত হওয়ার প্রবণতা থেকে এতিম দৌহিত্ররা বা নাতিরা রক্ষা পায় ।
আইনটির সতর্কতা : তবে এই আইনটির বিশেষ সতর্কতা হচ্ছে এই যে , ১৯৬১ সালের পূর্বে যাদের নানা বা নানি এবং দাদা বা দাদি জীবিত থাকা অবস্থায় পিতা বা মাতা কেহ মারা গেলে তারা এই আইনের সুফল ভোগ করবে না ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : এই আইন অনুযায়ী নানা জীবিত থাকা অবস্থায় মা মারা গেলে নানার দৌহিত্র বা মায়ের সন্তানরা সরাসরি নানা সম্পত্তি পাইবে কিন্তু মৃত্যু মায়ের স্বামী বা সন্তানদের পিতা তাহার শ্বশুরের সম্পত্তি হইতে কোন সম্পত্তি পাইবে না ।