ওয়ারিশি সম্পত্তির নামজারি (Mutation) করার নিয়ম: ২০২৩-২০২৬ সর্বশেষ আপডেট

 


ওয়ারিশি সম্পত্তির নামজারি (Mutation) করার নিয়ম: ২০২৩-২০২৬ সর্বশেষ আপডেট



পূর্বপুরুষ হইতে প্রাপ্ত হইয়া যে  জমির  আমরা মালিক হই তার পরিপূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য নামজারি বা মিউটেশন করা একান্ত দরকার নামজারি করা না থাকলে ভবিষ্যতে ঐ  জমি বেচা বা দান করা বা ব্যাংকের লোন করা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আইনি সমস্যায় পড়তে হয় ।

বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে এখন আপনি নিজের  ঘরে বসেই সম্পূর্ণ অনলাইনে ওয়ারিশি  জমির নামজারি করতে পারেন নিম্নে খুবই সহজভাবে এই প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা হইল । 

কিসের জন্য নামজারি প্রয়োজন  ?

জায়গা জমি বেচার জন্য   যেমন  ,  দানপত্র দলিল দেওয়া ,  সাব-রেজিস্ট্রি দলিল দেওয়া ,  হেবা দলিল দেওয়া ইত্যাদির জন্য । 

নিজের নামে  ভূমি উন্নয়ন কর /  জমির খাজনা দেওয়ার জন্য । 

 ব্যাংক থেকে কোন ধরনের ঋণ পাওয়ার জন্য । 

 জমির মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতে কোন ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে থাকার জন্য । 


অবশ্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র : 

 অনলাইনে আপনি আবেদন করার পূর্বে নিম্নে বর্ণিত কাগজপত্র  পিডিএফ ফরমেটে রেডি রাখতে হবে । 

  ১ । আপনার এলাকায় সর্বশেষ যে রেকর্ড হয়েছে তার মূল খতিয়ান যেমন ,   বিএস ,   সিএস ,  আরএস ,  সিটি জরিপ এর মধ্যে যে খতিয়ান  প্রয়োজন সেটি রেডি রাখতে হবে  । 

২ । স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র বা সিটি মেয়র কর্তৃক প্রদত্ত স্মারক সম্বলিত ওয়ারিশ সনদপত্র । 

 ৩ । আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্র এবং পাস ফিট সাইজের ছবি । 

 ৪ । সম্পত্তির মূল মালিক যার কাজ হইতে আপনি সম্পত্তি পেয়েছেন তার মৃত্যু সনদ । 

৫ । অংশীদারদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগি হয়ে থাকলে তার   রেজিস্ট্রি কৃত  আপোষ বন্টনামা দলিল ।

 ৬ । ওয়ারিশি  সম্পত্তি নিয়ে আদালতের মামলার কোন রায় থাকলে তার কপি ।

 বর্তমানে ওয়ারিশি জমি নাম পত্তন করার ধাপ গুলি 

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের  মাধ্যমে অতি সহজেই আপনি আবেদন করতে পারেন  । 


১ । নাম্বারে অনলাইনে আবেদন সাবমিট করা

 সর্বপ্রথমে বাংলাদেশের  ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট  land . gov .bd এ প্রবেশ করুন 

"ই-নামজারি" অপশনে ক্লিক করুন এবং "নামজারি আবেদন অপশনটি সিলেক্ট করুন  | 

আবেদনের ধরণের যায় গায়  ওয়ারিশি সূত্রে অপশনটি টিক দিতে হবে । 

 আপনাদের সচল আছে এমন মোবাইল নাম্বার ,  জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভেরিফিকেশন এর কাজ সম্পূর্ণ করতে  হবে ।

 

 ২ ।  নাম্বারে জমির  বর্ণনা ও ওয়ারিশদের সকল তথ্য পূরণ : 

 মৌজার নাম  ও  নাম্বার  , খতিয়ান নাম্বার ,  দাগ নাম্বার এবং জমির পরিমাণ  সঠিকভাবে ইনপুট দিতে হবে । 

জমির মালিকের সাথে আপনার সম্পর্ক কি এবং হিসাব আনতে আপনি কতটুকু জমি পাইবেন তা উল্লেখ করতে হবে । 

অন্য কোন ওয়ারিশ থাকলে তাদের নাম ও ঠিকানা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে হবে ।  

 ৩ ।  নাম্বারে কাগজপত্র গুলি আপলোড করা ও সরকারি ফি প্রদান  : 

পূর্বে প্রস্তুত রাখা সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন । 

 সরকারি আবেদন ফি বাবদ ৭০ টাকা অনলাইন ব্যাংকিং যেমন  , বিকাশ ,  রকেট ,  নগদ এর মাধ্যমে পরিশোধ করুন । 

 সরকারি ফি পরিষদের পর একটি আবেদন আইডি আপনি দেখতে পাবেন এটিকে সংরক্ষণ করুন । 

৪ । নম্বরে যে জমির  আবেদন করা হয়েছে তাহার তদন্ত ও শুনানি : 

 আবেদনটি যে এলাকার  জমির জন্য  ঐ  এলাকার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েবের কাছে যাবে নায়েব  সরজমিনে তদন্ত করে এসিল্যান্ড অফিসে প্রতিবেদন পাঠাবে। 

এবং একটি নির্দিষ্ট তারিখে এসিল্যান্ড অফিসে  সুনানির জন্য আপনাকে ডাকা হবে শুনানির সময় সকল কাগজপত্রের মূল কপি আনতে হবে । 

 ৫ । নম্বরে সরকারি ডিসিআর ফি প্রদান ও খতিয়ান সংগ্রহ 

আপনার আবেদনটি গ্রহণ করা হলে আপনার মোবাইলে এস এম এস আসবে । 

 তারপরে খতিয়ান ও ডিসিআর জন্য ১১০০ টাকা অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে । 


নামজারি করতে কত টাকা সরকারি ফি লাগে তার বর্ণনা : 

 আবেদন ফি ২০ টাকা ।  

নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা । 

 রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান ফি ১০০০ টাকা ।

 প্রতি কপি খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা । 

   মোট সরকারি ফির পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৭০ টাকা । 

বাস্তব অভিজ্ঞতা  : আমি আমার নিজের জমির জন্য নাম  পত্তন করতে গিয়ে এক দালাল খপ্পরে পরি দালাল নাম  পত্তন জন্য আমার কাছ থেকে ১০০০০ টাকা নিয়েছে   ৫০ শতক জমির জন্য ।  তাই আপনারা দালাল খপ্পরে না পড়ে কম খরচে নিজেদের জমির নাম পত্তনের কাজ নিজেরা করুন । 

 

Post a Comment

Previous Post Next Post