বাংলাদেশে হিন্দু আইনে বাবার সম্পত্তি বন্টন /ভাগ করা হয় মূলত দায়ভাগামত ও ১৯৩৭ সালের হিন্দু বিধবার স্ত্রীর অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ।
১ । হিন্দু আইনে বাবা সম্পত্তি বন্টনের অগ্রাধিকার ভিত্তিক তালিকা :
বাবা মৃত্যুর পরে তার রেখে যাওয়া স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ওয়ারিশগণ নিচে বর্ণিত ক্রম অনুযায়ী পাইবে ।
| ক্রমানুসার | উত্তরাধিকারী দের বর্ণনা | যে অধিকার পাইবে |
| প্রথম অগ্রাধিকার | ছেলে সন্তান | বিধবা স্ত্রীকে এক ছেলের সমপরিমাণে জমি জীবনী সত্ব হিসেবে দিয়ে যে জমি থাকবে তাহা এক ছেলে থাকলে সব একাই পাইবে আবার একাধিক পুত্র থাকলে সকল পুত্র গনে সমানভাবে ভাগ করে নিবে । |
| দ্বিতীয় অগ্রাধিকার | পৌত্র /ছেলের পুত্র বা নাতি | ছেলে মৃত্যু হলে ছেলের পুত্র বা নাতি দাদা সম্পত্তিতে একটা অংশ পাইবে ঠিক যতটুকু অংশ তার বাবা জীবিত থাকলে পাইত |
| তৃতীয় অগ্রাধিকার | প্রপৌত্র / ছেলের পুত্রের পুত্র বা পুতি | পুত্র ও পৌত্র জীবিত না থাকলে, প্রপৌত্র / পুতি তার বাবা ও দাদার মত সম্পত্তিতে একটা অংশ পাইবে । |
| চতুর্থঅগ্রাধিকার | বিধবা স্ত্রী | উপরে উল্লেখিত ওয়ারিশগণ না থাকলে সমস্ত সম্পত্তিতে বিধবা স্ত্রী জীবনী সত্ব পাইবে আবার পুত্র সন্তান থাকলে পুত্র সন্তানদের সাথে একত্রে এক পুত্রের সমপরিমাণ জীবনী সত্ব পাইবে । |
| পঞ্চম অগ্রাধিকার | মেয়ে | কোন পিতার পুত্র সন্তান না থাকিলে কিছু শর্তসাপেক্ষে মেয়ে পিতার সম্পত্তিতে জীবনী সত্ব ভোগ করে |
| ষষ্ঠ অগ্রাধিকার | দৌহিত্র / মেয়ের পুত্র | কোন পিতার পুত্র সন্তান না থাকলে তাহার সম্পত্তির প্রকৃত মালিক হয় দৌহিত্র |
বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় : কোন মৃত : পিতার পুত্র সন্তান থাকলে শুধুমাত্র মৃত : ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী এক পুত্র সন্তানের সমপরিমাণ সম্পত্তিতে জীবনী সত্ব পায় এছাড়া উপরে উল্লেখিত কোন ওয়ারিশ গন কোন সম্পত্তি পায় না ।
২ । বিধবা স্ত্রী :
বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি পায় মূলত ১৯৩৭ সালের হিন্দু বিধবা নারীর অধিকার সংরক্ষণ আইন মোতাবেক । কোন পুত্র সন্তান না থাকিলে স্বামীর সকল সম্পত্তিতে বিধবা স্ত্রী জীবনী সত্ব পায় তবে পুত্র সন্তান থাকলে এক পুত্র সন্তানের সমপরিমাণ সম্পত্তি বিধবা স্ত্রী জীবনী সত্ব হিসেবে পায় ।
জীবনী সত্ব বেচা :
বিশেষ কারণ ছাড়া সাধারণত বিধবা স্ত্রী তার স্বামী হইতে প্রাপ্ত জীবনী সত্ব এর সম্পত্তি বিক্রয় করিতে পারেনা
বিধবা স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার জীবনী সত্ব সম্পত্তি :
বিধবা স্ত্রী মৃত্যুর পর স্বামী হইতে প্রাপ্ত তাহার জীবনী সত্বের সম্পত্তি স্বামী নিজ গোত্রে ফিরে যাবে ।
৩ । কন্যা :
পুত্র সন্তান থাকলে কন্যারা বঞ্চিত হয় তবে পুত্র সন্তান না থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কন্যা সন্তান পিতা সম্পত্তি পায় এক্ষেত্রে ।
প্রথমে অধিকার পায় কুমারী কন্যা ।
কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্র সন্তান আছে অথবা পুত্র সন্তান সম্ভাবনাময় কন্যারা বাবার সম্পত্তি পায় ।
তবে বন্ধ্যা কন্যা সন্তান ও পুত্রহীন কন্যা সন্তান পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়
তবে কন্যাগণ পিতার সম্পত্তি জীবনী সত্ব হিসেবে পাইবে ।
৪ । বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় দলিলের মাধ্যমে জমিজমা বন্টন :
পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পত্তি রেজিস্ট্রি কৃত দলিলের মাধ্যমে কারও নামে লিখে দিতে পারেন ।
যেমন ,
দানপত্র দলিলের মাধ্যমে :
পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় তার জমিজমা রেজিস্টিকৃত দানপত্র দলিলের মাধ্যমে ছেলে , মেয়ে , স্ত্রী যে কারো নামে লিখে দিতে পারে ।
উইল দলিলের মাধ্যমে :
পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় তার জমিজমা রেজিস্টিকৃত উইল দলিলের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে পারেন যে তার জমি জমা তার মৃত্যুর পরে কে কে পাইবে এবং কতটুকু পাইবে তাহা ।
৫ । বন্টনের বাস্তব অভিজ্ঞতা :
আমি মোরেলগঞ্জ উপজেলার হাওলারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সরোজ বিশ্বাসের পুত্র মৃত : রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস এর সম্পত্তি ভাগ করতে গিয়ে দেখি তিনি রেখে যান ৩০০ শতক জমি । তার ওয়ারিশ থাকে এক স্ত্রী , দুই পুত্র , এক কন্যা , উক্ত সম্পত্তি হইতে কে কতটুকু জমি পাইবে ?
স্ত্রী জীবনী সত্ব হিসেবে পায় ১০০ শতক ।
এক পুত্র পাবে ১০০ শতক ( একত্র দুই পুত্র পাবে পাবে ২০০ শতক ) ।
পুত্র সন্তান থাকায় কন্যা বঞ্চিত হবে \
হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন অনুযায়ী সম্পত্তিতে প্রত্যেক ওয়ারিশের অংশ নির্ধারণ করে একজন বিজ্ঞ সার্ভেয়ার দিয়ে সরজমিনে জমি মাপিয়ে কে কোন খতিয়ানের কোন দাগ থেকে নেবে তাহা নির্ধারণ করে দি এবং সম্পত্তিতে বর্তমান মালিকের নিজ নামে খাজনা দেওয়ার জন্য নাম পত্তন করার পরামর্শ দেই ।
