দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তর

 আক্ষরিক অর্থে  দেবোত্তর বলতে দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীয় সম্পত্তি বুঝায় ,  ধর্মই একমাত্র বন্ধু ,  যা মরণেও অনুগমন করে  ,  হিন্দু শাস্ত্রের এই অমর বাণীর উদ্দীপনায় কোন কোন বিত্তবান ব্যক্তি পারলৌকিক শান্তির কামনায় এবং দেবতার স্মৃতি চিরস্মরণীয় করার মানসে  তাদের সম্পদ দেবতার উদ্দেশ্যে দান করে থাকেন ,  এরূপ উৎসর্গকৃত সম্পত্তির উপর দাতার আর কোন  স্বত্ব   থাকে না  , ইহা চিরস্থায়ীভাবে দেবতার বা ঈশ্বরের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় , দাতা  মন্দির নির্মাণ করে তাতে কোন দেবমূর্তির প্রতিষ্ঠা করত  :   নিয়ত পূজা  অর্চনা ব্যবস্থা করে  ,  এরকম বিগ্রহ বা দেব মূর্তি একটা আইনগত স্বত্ব (juridical person )  এবং ইহাই ঐ  সম্পত্তির মালিক হিসেবে  গণ্য ,   পূজা   অর্চনা ছাড়াও দাতব্য তথা মানবতার সেবার জন্য সম্পত্তি উৎসর্গ করা যায় ,  এই মালিকদের পক্ষে একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি সকল কার্য পরিচালনা করে থাকেন তাকে বলে সেবাইত ।

 সেবাইত  কর্তৃক দেবোত্তর সম্পত্তি   হস্তান্তর  : শাস্ত্রীয় আইনের বিধান মতে দেবোত্তর  সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না ,  আদালতের ডিগ্রিমূলেও ইহা হস্তান্তর করা যায় না  , কেননা তা জননীতির পরিপন্থী দেব সেবা কার্য হস্তান্তরের অযোগ্য  । 

 গোবিন্দ বনাম রামচন্দ্র দাস { (  ১৯২৫ )  ৫২ কলিকাতা ৭১৮ } মামলার  সিদ্ধান্তে বলা হয় যে  , দেবোত্তর সম্পত্তি বন্টনেরও অযোগ্য , তবে ধর্মীয়  অর্চনা অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে এবং দেব সম্পত্তির রক্ষা করার উদ্দেশ্যে কিংবা সম্পত্তিটির উন্নয়নের জন্য  সেবায়েত  সম্পত্তির অংশবিশেষ বিক্রি করতে পারেন ,  একজন নাবালকের  অভিভাবক যে ভাবে আইনগত প্রয়োজনে সম্পত্তি  হস্তান্তর করতে পারেন অনুরূপভাবে  সেবায়েত আইনগত প্রয়োজনে  দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে ।

 হনুমান প্রসাদ বনাম মোসাঃ বাবুই মনুরাজ মামলায় আদালত এই মর্মে রায় দেয় যে  , আইনগত প্রয়োজন ও সম্পত্তির কল্যাণ ছাড়া অন্য কোন কারণে  সেবায়েত দেবোত্তর  সম্পত্তির হস্তান্তর করতে পারেন না  , এমনকি স্থায়ীভাবে ইজারা দিতে পারেন না  , কেননা তিনি সম্পত্তির মালিক নন দেবতার পক্ষে দখল করেন মাত্র । 

ক্রেতার কর্তব্য  :  সেবায়েত  দেবোত্তর সম্পত্তির  মালিক নন ,   দেবোত্তর  সম্পত্তি দেখাশুনা ও পরিচর্যার জন্য তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মাত্র ,  তবে একমাত্র আইনগত প্রয়োজনে তিনি  দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন  , আইনগত প্রয়োজন  বলতে বুঝায় ধর্মীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা সম্পত্তি রক্ষা বা উন্নয়ন করা বুঝায় ,  অথবা মামলা মোকাদ্দমার ব্যয় বহন করাও এর অন্তর্ভুক্ত  ,  দেবোত্তর সম্পত্তি কেনার সময় কি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে ,  বিরোধ দেখা দিলে ক্রেতাকেই প্রমাণ করতে হবে যে ,  তিনি যথাসম্ভব অনুসন্ধান করেছেন এবং বিক্রির সঙ্গত কারণ ছিল বলে তিনি বুঝতে পেরেছেন , 

বিক্রির জন্য  সেবায়েত যদি আদালতের অনুমতি পেয়ে থাকেন তবে তা যথেষ্ট ,  এ প্রসঙ্গে ডঃ হাবিবুর রহমান বনাম মনসুর আলী { ২৫ ,  ডি ,  এল ,  আর }  মামলার নজির বিশেষভাবে স্মরণীয় সম্পত্তি হস্তান্তর ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা ও  এখতিয়ার সম্পর্কে ক্রেতাকেই অনুসন্ধান করতে হবে । 

Post a Comment

Previous Post Next Post