হেবা দলিল করার নিয়ম

 বাংলাদেশের হেবা দলিল হল জীবিত অবস্থায় কোন ব্যক্তির সম্পত্তি স্বেচ্ছায় অন্য কাউকে দান করার আইনগত প্রক্রিয়া  , সাধারণত পিতা তাহার ছেলে  ও  মেয়েদেরকে হেবা দলিল দিয়ে থাকে। আবার অনেক সময় মাথাও তাহার সন্তানদেরকে হেবা দলিল দিয়ে থাকে।

হেবা দলিল করার নিয়ম : 

১ নং দাতা ও গৃহীতার সম্মতি :  হেবা দলিল কারার  সময় হেব  দাতা ও হেবা দলিল গৃহীতা  উভয়ের সম্মতি প্রয়োজন । 

২ নং হেবা  ঘোষণা :  দাতাকে স্পষ্টভাবে হেবা ঘোষণা করতে হবে ,  উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে আমি আমার এই বাড়িটা আমার বড় পুত্র মোহাম্মদ রফিককে হেবা  দান করলাম ।

৩ নং দান গ্রহণ : হেবা  গ্রহীতা কে দান গ্রহণ করতে হবে । 

৪ নং  দখল :  হেবা  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সম্পত্তির দখল হস্তান্তর করা অর্থাৎ যাকে সম্পত্তি হেবা দেওয়া হচ্ছে তাকে বাস্তবে সম্পত্তি বুঝাইয়া দিতে হবে । 

হেবার জমি রেজিস্ট্রি :  বাংলাদেশ সংশোধিত ভূমি রেজিস্ট্রি আইন ২০০৪ অনুযায়ী সকল হেবা জমি রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক  , রেজিস্ট্রিবিহীন হেবার আইনগত কোন ভিত্তি নাই । 

হেবা  রেজিস্ট্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

দাতা ও গৃহীত উভয়ের জাতীয় পরিচয় পত্র । 

 এস এ এবং বি আর এস খতিয়ানের পর্চা প্রয়োজন হলে  সি  এস এবং আর এস খতিয়ানের পর্চা ।

 মূল দলিল  এবং ভায়া দলিলের কপি  ।

উভয় পক্ষের পাসপোর্ট সাইজের ছবি । 

 সর্বশেষ বছরের খাজনা দাখিলার রশিদ । 

খরচ :  সাধারণত দলিলের তুলনায় হেবা দলিলে খরচ কম লাগে তবে খরচ নির্ভর করে সম্পত্তির মূল্য , এলাকা ,  আত্মীয়তার সম্পর্কের ধরন  , স্থানীয় সরকারী ফি , ইত্যাদির উপর । 

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: হেবা দলিল সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল  , তাই ভবিষ্যতে যেন মালিকানা নিয়ে কোন ধরনের বিরোধ দেখা না দেয় এজন্য দলিল প্রস্তুত করার সময় একজন বিজ্ঞ আইনবিদ বা অভিজ্ঞ দলিল লেখক এর সহায়তা নেওয়া দরকার । 



Post a Comment

Previous Post Next Post