মুসলিম ফারায়েজ হলো ইসলামী উত্তরাধিকারী আইন যার মাধ্যমে কোন মুসলিম ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কিভাবে বন্টন হবে তা নির্ধারিত করে ।
ফারায়েজ আইনের মূল নীতি :
প্রথমে দাফন খরচ পরিষদ করা |
দ্বিতীয় ঋণ পরিশোধ করা |
তৃতীয় বৈধ ওসিয়ত পূরণ করা |
উক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার পরে যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে তাহা উত্তর অধিকারীদের মধ্যে বন্টন করে দিতে হবে ।
সাধারণত উত্তর অধিকারীদের অংশ :
১ । নাম্বারে পিতা : ১/ ৬ এর এক অংক + অবশিষ্ট ভুগি।
২ নম্বরে মাতা : ১ / ৬ এর এক অংশ ।
৩ । নাম্বারে স্ত্রী: ১ / ৮ এর এক অংশ নিঃসন্তানি হলে ১ / ৪ এর এক অংশ ।
৪ । নম্বরে স্বামী : ১ / ৪ এর একাংশ নিঃসন্তানি হলে ১ / ২ এর এক অংশ ।
৫ । নাম্বারে কন্যা : কন্যা যদি একজন হয় তাহলে মোট সম্পত্তির অর্ধেক ঐ কন্যা পাবে , আবার কন্যা যদি একাধিক হয় তাহলে মোট সম্পত্তির ২ / ৩ অংশ সকল কন্যাগণ সমানভাবে ভাগ করে নিবে , আবার পুত্র সন্তানের সাথে যদি কন্যা সন্তান থাকে তাহা হইলে অবশিষ্ট সম্পত্তিতে ২: ১ অনুপাতে পাবে ।
৬ । নাম্বারে পুত্র : পুত্র সম্পত্তিতে অবশিষ্ট ভোগী হইবে , পুত্র একজন হইলে সকল অবশিষ্ট সম্পত্তি একাই পাইবে , আবার পুত্র সন্তান একাধিক হইলে সকলে সমানভাবে অবশিষ্ট সম্পত্তি ভাগ করে নিবে , আবার পুত্র সন্তান ও কন্যা সন্তান উভয় থাকিলে ২ : ১ অনুপাতে ভাগ করে নিবে ।
৭ । নাম্বারে ভাই ও বোন : পিতা ও পুত্র সন্তান থাকলে ভাই ও বোন বঞ্চিত হয় , তবে পিতা ও পুত্র সন্তান না থাকলে ভাই ও বোন অবশিষ্ট ভোগী হয়। তবে অবশিষ্ট সম্পত্তি ভাই ও বোন ২ : ১ অনুপাতে ভাগ করে নিবে ।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে , হাসিনা নামের এক মহিলা এক স্বামী , এক কন্যা , এক পুত্র সন্তান রাখিয়া মৃত্যুবরণ করেন , মৃত্যু কালে তাহার সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ শতক জমি ।
তাহার ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টন :
স্বামী ১ / ৪ এর একাংশে পায় ২৫ শতক ।
স্বামীর সম্পত্তি নেওয়ার পরে যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে তাহাতে পুত্র ও কন্যা ২ : ১ অনুপাতে পাবে ।
এক পুত্র সন্তান পাবে ৫০ শতক।
এক কন্যা সন্তান পাবে ২৫ শতক ।
