অগ্রক্রয় মামলা কখন করা যায় না





অগ্রক্রয় মামলা কখন করা যায় না

 অগ্রক্রায় অধিকার (pre- emption )  :  কোন  স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের পর ঐ মূল্য প্রদান করে অপর ব্যক্তি ক্রেতার  স্থলাভিষিক্ত  হবার অধিকার কে  অগ্রক্রায় অধিকার বা হক সুফা  বলে  |

  প্রখ্যাত গোবিন্দ দয়াল বনাম এনায়েতুল্লাহ । { ( ১৮৮৫  ) ৭  এলাহাবাদ ৭৭৩ } মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট মন্তব্য করে যে ,  প্রত্যেক মালিকের শান্তিপূর্ণভাবে তার স্থাবর সম্পত্তি  ভোগ  করার  যে  অধিকার রয়েছে  , তার ফলে তার নিজের নয় এরূপ অন্য কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি হলে সে সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব  অর্জনের জন্য যে শর্তে বিক্রি হয়েছে তা পূরণ করে তদস্থলে ক্রেতার  স্থলাভিষিক্ত  হবার অধিকার কে  অগ্রক্রায় অধিকার বলে । 

  ইহা একটি অধিকার যার বলে একটি স্থাবর সম্পত্তির মালিক অপর একটি  স্থাবর  সম্পত্তি যা অপার কারো নিকট বিক্রি করা হয়েছে তা ক্রয়ের  মাধ্যমে অর্জন করতে পারে । 

বাংলাদেশে ১৯৫০ সালের এস্টেট একুইজি শন এন্ড টেনান্সি অ্যাক্টের ৯৬ ধারায় অংশীদার ও সংলগ্ন জমির মালিকদের এবং ১৯৪৯ সালের নন এগ্রিকালচারাল  টেনান্সি অ্যাক্টের  ২৪ ধারায় অংশীদারের অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে । 

এই উপমহাদেশের মুসলিম আইনের এই বিধানটি প্রবর্তিত হয় মুসলিম রাজত্বকালে ,  এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জাতি বা ধর্মের কোন পার্থক্য করা হতো না  , তাই হিন্দু ও মুসলমান সকলের উপরই এই নীতি প্রয়োগ করা হতো ,  পরবর্তীকালে প্রণীত আইনের মাধ্যমে সকলের উপরই  আইনের বিধান হিসেবে প্রয়োগ হতে থাকে । 

মুসলিম আইনের বিধান মতে তিন শ্রেণীর ব্যক্তি এ অগ্রাধিকার প্রয়োগ করতে পারে যেমন

 ১।  শাফি - ই  - শরীফ অর্থাৎ সম্পত্তির সহ অংশীদার । 

 ২ । সাফি - ই  - খালিত  অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির সাথে মিশ্রিতভাবে যার অধিকার বিদ্যমান । 

  ৩ ।  সাফি- ই -  জার অর্থাৎ বিক্রিত  সম্পত্তির সংলগ্ন জমির মালিক ।  


বাংলাদেশে অগ্রক্রয় মামলা (Pre-emption Case) সব  অবস্থায় করা যায় না। কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের অধিকার থাকে না। 

সাধারণত  নিচে বর্ণিত  ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়ের মামলা করা যায় না : 

সহ-মালিক না হলে : যিনি মামলা করেন তিনি যদি  ঐ জমির সহ-শরিক (co-sharer) না হন, তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবি করতে পারবেন না।

আইন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে   সাধারণত বিক্রয়ের খবর জানার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা করতে হয় ,  সময়সীমা অতিক্রম হলে মামলা অগ্রহণযোগ্য হয় ।

 হেবা / দান করা হলে  : জমি যদি বিক্রি না হয়ে বৈধ হেবা/দান এর  মাধ্যমে হস্তান্তর করা  হয়, তাহলে সাধারণত অগ্রক্রয়ের মামলা করা যায় না।

ওয়ারেশ সূত্রে মালিক হলে  :  উত্তরাধিকার বা  ওয়ারেশ সূত্রে মালিক  হয়ে সম্পত্তি পেলে সেটি বিক্রয় ধরা হয় না, তাই অগ্রক্রয় চলে না।

একজন সহ-শরিক অন্য একজন সহ-শরিককে :   সম্পত্তি বিক্রি  হয়ে অনেক ক্ষেত্রে  একজন সহ-শরিকের কাছে বিক্রি হলে অন্য  একজন সহ-শরিকের অগ্রক্রয়ের অধিকার থাকে না বা সীমিত হয়।

 সম্পত্তি বিনিময়  হলেজমি যদি বিক্রির বদলে বদল  বা বিনিময় করা হয়, তাহলে সাধারণত অগ্রক্রয়  প্রয়োগ  হয় না।

ক্রেতা আগে  শরিক হলে যদি ক্রেতা নিজে ঐ জমির একজন সহ-মালিক হন, ।তাহলে অন্যরাঅগ্রক্রয়ের দাবি করতে পারবেন না /সমস্যায় পড়তে পারেন।

আদালতে প্রমাণ করতে না পারলে  : বিক্রয়, শরিকানা, অংশ বা ক্ষতির বিষয় প্রমাণ করতে না পারলে মামলা খারিজ হতে পারে।

 পরামর্শ :   অগ্রক্রয় মামলা সাধারণত জটিল এবং কঠিন  হয় ,  তাই  জমির কাগজপত্র, খতিয়ান, দলিল ও দখলের বিষয় আদালত গুরুত্বসহকারে দেখে। তাই মামলা করার আগে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া দরকার । 

Post a Comment

Previous Post Next Post