ওয়ারিশ সম্পত্তি নামজারি করার নিয়ম ২০২৫


ওয়ারিশ সম্পত্তি নামজারি করার নিয়ম ২০২৫

 বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র বিশেষ করে ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এর নির্দেশনা মোতাবেক ওয়ারিশ সম্পত্তির নামজারি প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ করা হয়েছে  , ওয়ারিশ সম্পত্তির নামজারি দুই ভাবে করা যায় ।

 নিচে ধাপে ধাপে এর সম্পর্কে আলোচনা করা হইল । 


 ১ । নম্বরে নামজারি করার দুটি পদ্ধতি:

২০২৫ সালের পরিপত্রের আইন অনুযায়ী আপনি দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটি পদ্ধতিতে নামজারির জন্য আবেদন করতে পারেন । 

প্রথমত :  বন্টনামা দলিল ছাড়া সকল ওয়ারেশগণ একত্রে যৌথভাবে নামজারি করতে চান তাহলে মৃত্যু ব্যক্তির মোট জমিতে প্রত্যেক  ওয়ারিশের হিরসা অংশ উল্লেখ করে সরকারি রেকর্ডে সবার নাম একসাথে একটি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে । 

দ্বিতীয়তঃ কোন ওয়ারেশ যদি যৌথ খতিয়ানে না থেকে নিজের অংশ একদম আলাদা করে পৃথক খতিয়ানে  নামজারি করতে চান । তাহলে সকল  ওয়ারিসদের সম্মতিতে একটি  রেজিস্ট্রিকৃত আপোষ বন্টন নামা দলিল ছাড়া এককভাবে পৃথক খতিয়ান করা যায় না । 

২ ।  নম্বরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  :

 আবেদন করতে হলে নেচে    বর্ণিত কাগজপত্রের   স্ক্যান কপি পিডিএফ আকারে রেডি রাখতে হবে  । 

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র বা সিটি মেয়র বা সিটি কাউন্সিলার কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশ কায়েম সনদপত্র   ।

মৃত ব্যক্তির নামে থাকা সর্বশেষ খতিয়ান  যেমন , বিএস ,আরএস , সিটি জরিপ খতিয়ান এর খতিয়ান । 

 আবেদনকারী প্রত্যেক ওয়ারিসদের জাতীয় পরিচয় পত্র এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি  । 

যদি কেউ পৃথক খতিয়ান করতে চায়  তাহলে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল / বাটোয়ারা মামলার ডিক্রি  থাকতে হবে । 

 ৩ । নম্বরে অনলাইনে নামজারি প্রক্রিয়া : 

অনলাইন পোর্টাল এ  প্রবেশ করুন : 

 বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট   Land.gov.bd  লিংকে প্রবেশ করে নামজারি আবেদন অপশনটি সিলেক্ট করুন | 

 আবেদন ফরম পূরণ :  জমির এলাকাভিত্তিক  সঠিক তথ্য দিতে হবে বিভাগের নাম  ,জেলার নাম , উপজেলার নাম , মৌজার নাম ও নাম্বার ,খতিয়ান ও দাগ নাম্বার  ,ওয়ারিসদের জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী তথ্য পূরণ করতে হবে | 

শুনানি ও যাচাই-বাছাই :  আবেদনের কপি  ও এর সাথে নথিতে গাঁথা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্রথমে ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন অফিসের তশিলদার এর কাছে প্রতিবেদনের জন্য জমা দিতে হবে , আর যাচাই-বাছাই করে তশিলদার প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করবেন  । তশিলদার কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন ও আবেদন কপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  উপজেলা ভূমি উন্নয়ন অফিস এ জমা দিতে হবে ।  কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে  শুনানির তারিখ ধার্য করবে । উক্ত তারিখে এসি ল্যান্ড এর সম্মুখে সকল কাগজপত্রের মূল কপি উপস্থিত করতে হবে । 

৪ নাম্বার নামজারি খতিয়ান ও ডি সি আর সংগ্রহ : আবেদন মঞ্জুর হলে আপনার মোবাইলে একটি এস এম এস আসবে  , এরপরে অনলাইনে খতিয়ান ফি বাবদ  ১০০ টাকা এবং রেকর্ড সংশোধন ফি  বাবদ ১০০০ হাজার টাকা পরিশোধ করে কিউআর কোড যুক্ত মূল নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর এর কপি ডাউনলোড করতে হবে । 


Post a Comment

Previous Post Next Post