বাংলাদেশে প্রচলিত সরকারি আইন ও ধর্মীয় আইন অনুযায়ী কোন সন্তানকে মুখের কথা দিয়ে ত্যাজ্য করে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যায় না | তবে কোন ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পত্তির উপর তার নিজের নিরঙ্কুশ অধিকার আছে তাই ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় আইনি উপায়ে সম্পত্তি অন্য কাউকে হস্তান্তর করে থাকলে সম্পত্তি থেকে সন্তান বঞ্চিত হবে |
এ বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো
এক নম্বরে সন্তানকে ত্যাজ্য করার আইনগত নিয়ম :
আমাদের দেশে নাটক সিনেমায় সন্তানকে ত্যাজ্য করার বিষয়টি দেখা গেলেও বাস্তবে এদেশের সিভিল আ ইনে বা মুসলিম আইনে ত্যাজ্য করার কথা কোথাও উল্লেখ নেই ।
তাই আপনি যদি কোন স্ট্যাম্পে বা নটারি মাধ্যমে সন্তানকে ত্যাজ্য করেন বাস্তবে আইনের চোখে সেই দলিলের কোন ভিত্তি নেই
মা বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক রক্তের বন্ধন তাই চাইলেই আপনি এটি ছিন্ন করতে পারবেন না ।
দুই নম্বরে জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তি অন্যকে হস্তান্তরের মাধ্যমে সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা :
হেবা বা দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করে দিলে এবং উক্ত হেবা বা দানপত্র দলিল গৃহীতাকে সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দিলে তা আইনগত ভাবে বৈধ হবে । এবং পরোক্ষভাবে হেবা বা দানপত্র দলিল এর মাধ্যমে সন্তান পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে ।
ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পত্তি বিক্রি করে দিলে ব্যক্তির মৃত্যুর পরে সন্তানেরা পিতার বিক্রি করা সম্পত্তি দাবি করতে পারে না ।
তিন নম্বরে উইলের মাধ্যমে :
কোন ব্যক্তি যদি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পত্তি উইল করেন এবং উইলের মাধ্যমে যদি তার কোন সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন ।
তবে আইনগতভাবে কাউকে ১ / ৩ একাংশের বেশি সম্পত্তি উইল করতে পারে না, তবে ১ / ৩ একাংশের বেশি উইল করলে ওয়ারিশ দের অনুমতি প্রয়োজন ।
চার নম্বরে পিতা মাতা মৃত্যুর পরে সন্তানের পিতা-মাতার সম্পত্তিতে আইনগত উত্তারঅধিকার :
পিতা-মাতার বাধ্য বা অবাধ্য যেকোনো ধরনের সন্তান পিতা-মাতার মৃত্যুর পরে তাহার সম্পত্তিতে ওয়ারিশ বা উত্তর অধিকারী হয় , কোনভাবেই সন্তানকে পিতা-মাতার উত্তারঅধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না ।
.png)