বাবার সম্পত্তি ভাগের নিয়ম ২০২৪




বাবার সম্পত্তি ভাগের নিয়ম ২০২৪

 বাংলাদেশি বাবার সম্পত্তি বন্টন নির্ভর করে বাবার ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর বাবা যদি মুসলিম ধর্মের হয় তাহলে মুসলিম উত্তরাধিকারী আইন আর হিন্দু ধর্মের হলে হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন অনুযায়ী  বাবার সম্পত্তি  বন্টিত হয় ।  

 ইসলাম ধর্ম মতে সম্পত্তি বন্টন  : 

 ইসলাম ধর্ম মতে মৃত্যুর পরে তার সম্পত্তি হইতে অবশ্য করণীয় তিনটি কাজ যেমন  ,

দাফন কাফনের খরচ  | 

ব্যক্তির ঋণ থাকলে পরিশোধ  |

 থাকলে অসিয়াত  থাকলে পূরণ করা | 

  উক্ত কাজগুলো করার পরে যে সম্পত্তি  থাকবে তাহা ওয়ারিশদের মাঝে বন্টন করে দিতে হবে । 

ওয়ারিশগণের বর্ণনা : 

স্ত্রী  : 

স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে ১  / ৮  একভাগ পায় আবার নিঃসন্তানি দাম্পত্তি হলে ১ / ৪ এর এক ভাগ পায়  । 

মাতা ও পিতা  : 

মাতা  পুত্রের সম্পত্তিতে  ১ / ৬  অংশ পায়। 

পিতা পুত্রের সম্পত্তিতে ১ / ৬ এর একাংশ পায় +  অবশিষ্ট ভোগী হয় । 

কন্যা সন্তান:

 এক কন্যা সন্তান থাকলে মোট সম্পত্তির অর্ধেক একাই পাইবে ।  আবার একাধিক কন্যা  সন্তান থাকলে মোট সম্পত্তির ২ / ৩  অংশ পাইবে এবং সকল কন্যাগণ সমানভাবে  ভাগ করে লইবে  । আবার কন্যা পত্র একত্রে  অবশিষ্ট সম্পত্তিতে  একত্রে অংশীদার হইলে এক পুত্র যা পাইবে এক কন্যা তার অর্ধেক পাইবে । 

পুত্র সন্তান : 

পুত্র সন্তান সবসময়ই  সম্পত্তিতে অবশিষ্ট ভোগী হয় , এক পুত্র থাকলে  অবশিষ্ট সম্পত্তি সবই একা পাইরে ,  একাধিক পুত্র সন্তান হলে সকল পুত্র গানে  তাহা সমানভাবে ভাগ করে নেবে।

ভাই ও বোন  : 

পুত্র সন্তান ও বাবা থাকলে ভাই ও বোন বঞ্চিত হয়। এরা না থাকলে ভাই ও বোন অবশিষ্টভোগী হয়।

বন্টনের ধাপ :

 

প্রথমে ওয়ারিশগণ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়রের নিকট হইতে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করিবে ।  

মুসলিম উত্তরাধিকারী আইন মোতাবেক ওয়ারিসদের  অংশ নির্ধারণ করতে হবে তারপরে  সার্ভেয়ার দিয়ে সম্পত্তি পরিমাপ করে  কে  কোন জায়গা থেকে  কে কোন খতিয়ারের কোন দাগ হইতে সম্পত্তি নিবে তা নির্ধারণ করে  ভাগ  করতে হবে । 

সম্পত্তিতে ওয়ারিশগনের  নাম পত্তন করতে হবে এবং নাম পত্তন করে সকল  ওয়ারিশগনের   সম্মতিতে আপোষ বন্টন  দলিল করতে হবে এবং পূর্বে ভাগ অনুযায়ী আপোষ বন্টন দলিল করতে হবে এবং দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে কে কোন  খতিয়ানের কোন দাগ হইতে  কতটুকু সম্পত্তি পাইবে তাহা এবং মোট  সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখ থাকবে , এর ফলে ভবিষ্যতে সম্পত্তির ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর হইবে । 


হিন্দু ধর্মমতে সম্পত্তি বন্টন : 

হিন্দু ধর্ম মতে  দায়ভাগা  মত অনুযায়ী সম্পত্তি বন্টন হয় , 

 এক্ষেত্রে প্রথমে পুত্র ,পৌত্র  ,প্রো পৌত্র  সম্পত্তি পায় | 

 এছাড়া বিধবা স্ত্রী এক পুত্র যে সম্পত্তি পাইবে ততটুকু সম্পত্তিতে জীবনি  স্বত্ব হিসাবে  ভোগ দখল করিবে  ,আবার পুত্র সন্তান না থাকলে স্বামীর সমস্ত সম্পত্তিতে বিধবা স্ত্রী  জীবনি  স্বত্ব হিসাবে  ভোগ দখল করিবে , তবে বিধবা স্ত্রী মৃত্যুর পরে সম্পত্তি স্বামীর নিজ  গোত্রে ফিরে যাবে । অর্থাৎ পুত্র , পুত্র না থাকলে পৌত্র ,পৌত্র না থাকলে  প্রো পৌত্র  সম্পত্তি পাইবে  | 

 পুত্র  ও বিধবা স্ত্রী না থাকিলে কন্যাগণ পিতার সম্পত্তি পাইবে, প্রথমত অবিবাহিত কন্যা , অবিবাহিত কন্যা না থাকলে পুত্র সন্তান  সম্ভাবনাময় কন্যা ও পুত্র আছে এমন কন্যা  ,তবে পুত্রহীন কন্যা ও   বন্ধ্যা  কন্যা পিতার সম্পত্তি পাইবে না ।  তবে কন্যাগণ সবসময়ই জীবন স্বত্ব হিসেবে সম্পত্তি ভোগ  দখল করিবে । 

 বিধবা স্ত্রী ও পুত্র সন্তান না থাকিলে প্রকৃতপক্ষে সম্পত্তির নিরঙ্কুশ মালিক হয় কন্যার পুত্র বা দৌহিত্র ।


বন্টনের ধাপ :

 

 প্রথমে   হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন অনুযায়ী ওয়ারিশগণ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়রের নিকট হইতে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করিবে । 

হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন অনুযায়ী ওয়ারিসদের অংশ নির্ধারণ করতে হবে তারপরে  সার্ভেয়ার দিয়ে সম্পত্তি পরিমাপ করে  কে  কোন জায়গা থেকে  কে কোন খতিয়ারের কোন দাগ হইতে সম্পত্তি নিবে তা নির্ধারণ করে   ভাগ করতে হবে । 

সম্পত্তিতে ওয়ারিশগনের  নাম পত্তন করতে হবে এবং নাম পত্তন করে সকল  ওয়ারিশগনের   সম্মতিতে আপোষ বন্টন  দলিল করতে হবে এবং পূর্বে ভাগ অনুযায়ী আপোষ বন্টন দলিল করতে হবে এবং দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে কে কোন  খতিয়ানের কোন দাগ হইতে কতটুকু সম্পত্তি পাইবে তাহা এবং সম্পত্তির  মোট পরিমাণ উল্লেখ থাকবে , এর ফলে ভবিষ্যতে সম্পত্তির ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর হইবে । 

Rules-for-dividing-father-s-property-2024

Post a Comment

Previous Post Next Post