মায়ের সম্পত্তি ভাগের নিয়ম 2026


মায়ের সম্পত্তি ভাগের নিয়ম 2026

 বাংলাদেশে মায়ের সম্পত্তি বন্টন হয় মূলত মায়ের পরিবার কোন ধর্মের অনুসারী তার উপর নির্ভর করে যদি মায়ের পরিবার মুসলিম ধর্মের অনুসারী হয় তাহলে মুসলিম  ফারায়েজ ও ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বন্টিত হয়  | আবার মায়ের পরিবার হিন্দু হলে ধর্মের হলে হিন্দুদের দায়ভাগা মত  অনুযায়ী মায়ের সম্পত্তি বন্টন হয়ে থাকে । 

 ১ । নাম্বারে মুসলমান ধর্মে মায়ের সম্পত্তি বন্টন । 

অবশ্য করণীয় তিনটি কাজ

মায়ের সৎ কাজের খরচ  । 

মা যদি কোন ঋণ থাকে তাহা পরিশোধ করতে হবে । 

 মা যদি কোন ওসিয়াত করে যায় তা পূরণ করা । 

 উক্ত কাজগুলো করে যে সম্পত্তি থাকিবে তাহা মায়ের ওয়ারিশ গণের মধ্যে বন্টন করে দিতে হবে । 

ওয়ারিশ গণের বৰ্ণনা  | 

স্বামী : 

 স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামী ১ / ৪  একাংশ পায় আবার  নিঃসন্তানি হলে অর্ধেক সম্পত্তি পায় ।

 পিতা ও মাতা  : 

মাতা ১ / ৬ এর একাংশ সম্পত্তি পায়  । 

পিতা  ১ / ৬  একাংশ সম্পত্তি পায়  আবার মেয়ের কোন পুত্র সন্তান না থাকলে অবশিষ্টভোগী ও হয় । 

কন্যা : 

  এক কন্যা হইলে মোট সম্পত্তির অর্ধেক সম্পত্তি একাই পাবে ,  আবার একাধিক কন্যা হইলে মোট সম্পত্তির ২ / ৩  অংশ পাইবে এবং  সকল কন্যাগণ সমানভাবে ভাগ করে লইবেন  , তবে মায়ের যদি শুধুই কন্যা সন্তান থাকে তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি মায়ের পিতা অর্থাৎ নানা জীবিত থাকলে তিনি পাইবেন '  আবার নানা  ( মায়ের পিতা )  যদি জীবিত না থাকে তাহলে মায়ের ভাই বোন অর্থাৎ মামা ও খালা  অবশিষ্ট ভোগী হইবে । 

পুত্র সন্তান  : 

 পুত্র সন্তান  অবশিষ্ট ভোগী হইবে , একজন পুত্র সন্তান হইলে তিনি সকল অবশিষ্ট  সম্পত্তি পাইবে ,  আবার একাধিক পুত্র সন্তান হলে সকল পুত্র গন অবশিষ্ট সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে নিবে ,  আবার পুত্রও কন্যা একত্রে  ওয়ারিশ হইলে অবশিষ্ট সম্পত্তি  ২ : ১ অনুপাতে ভাগ করে নেবে ,  তবে পুত্র সন্তান থাকলে  নানা  ( মায়ের বাবা )   /   মায়ের ভাই বোন অর্থাৎ মামা ও খালা কখনোই অবশিষ্ট ভুগি হইবে না 

রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে বন্টন :

 মা তাহার জীবদ্দশায় তাহার নিজের সম্পত্তি তাহার সন্তানদের মাঝে দানপত্র দলিল বা  উইল দলিল এর মাধ্যমে বন্টন করে যেতে পারেন । 

  ২ । নাম্বারে হিন্দু ধর্ম মতে মায়ের সম্পত্তি বন্টন 

হিন্দু ধর্ম মতে নারী সম্পত্তি বন্টন সাধারণত কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী তবে হিন্দু ধর্ম মতে একজন নারী দুই ধরনের সম্পত্তির মালিক হয় প্রথমত স্ত্রীধন ,  দ্বিতীয়ত জীবনি স্বত্ব  । 

প্রথমত স্ত্রীধন

একজন নারী তার বিবাহের সময় তাহার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন এর নিকট হইতে যে সকল উপহার সামগ্রী পেয়ে থাকেন বা ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকরি-বাকরির মাধ্যমে যে অর্থ আয় করে তাকেই স্ত্রী ধন বলে । 

স্ত্রীধন  বন্টন : 

 মৃত্যুর পরে তাহার স্ত্রী ধনের সম্পত্তি প্রথমে কুমারী কন্যা পাইবে । 

 কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্র আসে এমন কন্যা বা পুত্র সম্ভাবনাময় কন্যা পাইবে  । 

 নিঃসন্তানি বা  পুত্রহীন কন্যারা পাইবে না । 

কন্যা সন্তান না থাকলে পুত্র মায়ের স্ত্রী ধনের সম্পত্তি পাইবে ।  

 স্ত্রীধন রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে বন্টন :

 মাতা    স্ত্রী ধনের সম্পত্তি  তাহার জীবদ্দশায় তাহার নিজের  সন্তানদের মাঝে দানপত্র দলিল বা  উইল দলিল এর মাধ্যমে বন্টন করে যেতে পারেন ।

৩ ।  নাম্বারে রেজিস্ট্রিকৃত আপোষ বন্টন দলিল :  

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রয় ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করার জন্য ওয়ারিশগণের সকলের সম্মতিতে আপোষ বন্টন দলিল করা নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে । এজন্য প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন বা পৌরসভায় গিয়ে ওয়ারিশ  কায়েম  সনদ সংগ্রহ করবে এবং উত্তরাধিকারী নিয়ম অনুযায়ী সম্পত্তিত কে কতটুকু পাবে তা  নির্ধারণ করে  সকল  ওয়ারিশগণের  সম্মতিতে আপোষ বন্টন দলিল রেজিস্ট্রি করতে   হবে | 


Post a Comment

Previous Post Next Post