উত্তরাধিকার আইন ১৯২৫

 

উত্তরাধিকার আইন ১৯২৫




উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (The Succession Act, 1925) হলো  বাংলাদেশে চলমান একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আইন , যাহা  উইল (Testamentary Succession) এবং উইল ছাড়া (Intestate Succession) সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়   নিয়ন্ত্রণ করে। আইনটি ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯২৫ সালে প্রণীত হয় এবং  যাহা বর্তমান বাংলাদেশে প্রচলিত  ও বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ( তবে পরবর্তী সংশোধনসহ)।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশ মুসলমানদের সম্পত্তি মূলত মুসলিম ফারায়েজ ও ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বন্টন হয়ে থাকে  , তাই উত্তরাধিকার আইন ১৯২৫ এর সব বিধান মুসলিম উত্তরাধিকার এর  ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় | 

বাংলাদেশের হিন্দুদের উত্তরাধিকারী আইন হিসেবে দায়ভাগা মতের  প্রচলণ আছে   তাই উত্তর অধিকার আইন  ১৯২৫ হিন্দুদের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে কার্যকর হয়নি । 

উত্তরাধিকার আইন  ১৯২৫ খ্রিস্টান ও পারসী এবং অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে এই আইন টি  কার্যকর হয়েছে  ।


এই  আইনের মূল বিষয়  ;

 ১  |  আইনের উদ্দেশ্য : 

 এ আইনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পরে তার রেখে যাওয়া স্থাবর  ,অস্থাবর সম্পত্তি কিভাবে এবং কাদের মধ্যে বন্টন করা হবে তা নির্ধারণ করে , এই আইনটির প্রধানত দুই ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে  | 

কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার আগে তার সম্পত্তি উইল না করে গেলে  | 

আবার কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার আগে তার সম্পত্তি আইন মেনে উইল করলে  । 

২ । নম্বরে উইল বা ওসিয়তের নিয়ম : 

 উইলকারীকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে । 

  উইল টি অবশ্যই লিখিত আকারে হতে হবে এবং দুইজন সাক্ষী থাকতে হবে  ।

  উইল কারি জীবিত অবস্থায় তার তৈরি করা উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে । 

৩ ।  নাম্বারে উত্তরাধিকার সনদপত্র :

 পারিবারিক সম্পত্তি যেমন ,জায়গা জমি ঘর বাড়ি বন্টন এর পাশাপাশি মৃত্যু ব্যক্তির রেখে যাওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট  ,শেয়ার পত্র  ,সঞ্চয় পত্র তোলার জন্য এই আইনের ৩৯১ ও ৩৭০ ধারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । 

 ৪ ।  নাম্বারে প্রোবেট  ও লেটারস  অব  অ্যাডমিনিস্ট্রেশন  : 

 যদি কোন ব্যক্তি ইউল করে মারা যান তবে সেই উইল টি সঠিক বা আইনসম্মত কিনা তা আদালতের মাধ্যমে প্রত্যয়ন করাতে হয় একে প্রোবেট বলে  , খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে উইল কার্যকর করতে প্রোবেট  করা  বাধ্যতামূলক  , সম্পত্তিতে যদি কোন ধরনের উইল না থাকে তবে তা দেখা শোনার জন্য আদালত থেকে অনুমতি আনতে হয় তাকে লেটারস  অব  অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা প্রশাসনিক পরিপত্র বলে | 





Post a Comment

Previous Post Next Post