ওয়ারিশ সম্পত্তি না দিলে করণীয়



ওয়ারিশ সম্পত্তি না দিলে করণীয়


বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে ওয়ারিশি  বা  পৈতৃক জমি থেকে কাউকে বঞ্চিত করা একটি আইনগত অপরাধ যদি কোন ওয়ারিশ তার নিজ প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয় বা বুঝে না পায়  ,  তবে তিনি আইনগত ও সামাজিকভাবে সম্পত্তি পাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে ।

নিম্নে এ সম্পর্কে করণীয় কাজগুলো বর্ণনা করা হইল

  ১ । আপোষ হওয়ার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ :

 আইনগত ঝামেলায় জড়ানোর আগে পরিবারের সদস্য ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা সবচেয়ে ভালো কাজ  । 

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধ : 

 এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বা পৌরসভার কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের কাছে প্রথমে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হবে এবং তাদের সমন্বয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে । 

 আপর বন্টন দলিল :  স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মেম্বার চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সেলার এর মাধ্যমে বৈঠক দিয়ে সমস্যা সমাধান হলে  ।  একজন সার্ভেয়ার দিয়ে সঠিকভাবে জমি পরিমাপ করিয়ে প্রত্যেক অরিজদের জমি ভাগ করে দিতে হবে এবং ভাগ অনুযায়ী সকল নারীদের সম্মতিতে আপোষ বন্টন দলিল করতে হবে যাতে   পরবর্তীতে  জমি বেচায় কোন সমস্যা না হয় এবং নামজারির জন্য ও আপোষ বন্টন দলিল জরুরি । 

২ । যে ওয়ারিশ গন সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে তাদের নিকট  লিগাল নোটিশ পাঠাতে হবে : 

 যদি প্রাথমিকভাবে সামাজিক প্রচেষ্টার  মাধ্যমে এবং পারিবারিক প্রচেষ্টার  মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান না হয় তাহলে একজন সিভিল আইনজীবীর মাধ্যমে লিগাল নোটিশ পাঠাতে হবে । 

 একটি সময়সীমা থাকবে সাধারণত এটি ১৫ দিন থেকে ২০ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট করে দিতে হবে যে এই সময়ের মধ্যে বঞ্চিত ব্যক্তির অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য  বা অনুরোধ করতে হবে  । 

 অনেক সময় লিগা নোটিশ পাওয়ার সাথে সাথেই প্রতিপক্ষ সমস্যা সমাধানের জন্য রাজি হয়ে যায় । 


 ৩ । আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা :
 লিগার নোটিশের জবাবে কাজ না হলে আপনাকে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা করতে হবে । 


 যে আদালতে যাইবেন :  আপনার সম্পত্তি যে সিভিল আদালতের অধীনে ঐ  কোর্টের জজ সাহেবের নিকট মামলা করবেন । 

 বিশেষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ  ; মামলা চলা অবস্থায় অন্য শরীকগণ যেন মামলায় চলমান সম্পত্তি বিক্রি করিতে না পারে সেজন্য আদালত হইতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আনার জন্য আপনাকে চেষ্টা করতে হবে । 

৪ । এসি ল্যান্ড অফিসে নামজারির জন্য আবেদন :  আপনার অনুপস্থিতিতে অন্য ওয়ারিশরা সকল সম্পত্তি যদি তাদের নিজ নামে নামজারি করে থাকে । । 

 নামজারি বাতিলের জন্য মামলা :   আপনার জমি যে এলাকায় ঐ  এলাকার এসিল্যান্ড অফিসে নামজারি বাতিলের জন্য ৫০ ধারা বিধান মতে মিস মামলা করতে পারেন  । সকল সম্পত্তি যদি তাদের নিজ নামে নাম জারি করে থাকে । 

৫ । ফৌজদারি অপরাধের জন্য থানায় পুলিশের নিকট অভিযোগ  : যদি আপনার ওয়ারিশগণ সম্পত্তি থেকে আপনাকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয় বা দখল না দেয় বা হত্যার হুমকি দেয়  । 

আদালতে বা থানায় মামলা করতে হবে  : জবরদখল এর বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪ /  ১৪৫ ধারা মতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপনাকে মামলা করতে হবে । 

 জমিজমা সম্পর্কিত অপরাধ আইন  : নতুন ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ অনুযায়ী অন্যায় ভাবে কাহারো সম্পত্তি জবরদখল করা বা সহ অংশীদারদের ঠকানোর চেষ্টা করা দণ্ডনীয় অপরাধ এ অপরাধের জন্য থানায় এজাহার  / এফআইআর করা যাবে । 


৬ । আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপনার সাথে রাখতে হবে : 

 যে মূল মালিক হইতে আপনি সম্পত্তি পাইয়াছেন তাহার মৃত্যু সনদ । 

 স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশ সনদপত্র । 

 যে খতিয়ানের জমি থেকে আপনাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ঐ  খতিয়ান যেমন ,  এস এ ,  আরএস ,  বিএস ,   সিটি জরিপ  , এগুলোর সার্টিফাই কপি । 

 জমির মূল দলিল  সাথে রাখতে হবে  । 

জাতীয় পরিচয় পত্র ও ছবি  । 

বাস্তব উদাহরণ  : আমি মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ১২ নং জিউ ধারা ইউনিয়নের   কালা চান্দের দাইড  গ্রামে একটি  সালিশিতে গিয়েছিলাম সেখানে দেখলাম হোসেন আলী মাস্টারের মৃত্যু আনতে তাহার প্রথম সংসারের সন্তানেরা দ্বিতীয় সংসারের একমাত্র পুত্র সন্তানকে পিতার সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত করছে ।  স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেম্বার সাহেব ও বিজ্ঞ সালিশ গণ উপস্থিত থেকে সমস্যাটি সমাধানের জন্য চেষ্টা করেন এবং অবশেষে প্রথম পক্ষের সন্তানেরা দ্বিতীয় পক্ষের একমাত্র পুত্র সন্তানকে হিসাব অনুযায়ী পিতার সম্পত্তি দিতে রাজি হয় । এবং  স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেম্বার সাহেব ও বিজ্ঞ সালিশ গণ উপস্থিত থেকে  সার্ভেয়ার  /  আমিন দিয়ে জমি মেপে প্রথম পক্ষের সন্তানের নিকট হইতে জমি নিয়ে দ্বিতীয় পক্ষের একমাত্র পুত্র সন্তানকে  তার প্রাপ্য অংশ বুঝাইয়া দেয় । এতে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়ে যায় ।


 

Post a Comment

Previous Post Next Post