খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০২০


খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০২০


 বর্তমানে বাংলাদেশে যে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন দায়ভাগা প্রচলিত আছে তাহা লিঙ্গ ভেদে বৈষম্যে পরিপূর্ণ  , তাই হিন্দু উত্তরাধিকার আইন লিঙ্গ ভেদে বৈষম্য দূর করতে ও নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০২০ তৈরি করা হয় । 


১ । বর্তমান হিন্দু আইনের সীমাবদ্ধতা : 

নারীদের সামান্য অধিকার ; 

একজন নারী তার স্বামী হইতে প্রাপ্ত সম্পত্তি জীবনী স্বত্ব  হিসেবে আজীবন ভোগ দখল করিতে পারে কিন্তু বিক্রি করিতে পারেনা । 

মেয়েরা পৈত্রিক সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত হয় :

 কোন পুরুষ বা পিতার পুত্র সন্তান থাকলে ঐ  পিতার মেয়েরা পৈত্রিক সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত হয় । 

বন্ধা ও পুত্র সন্তানহীন কন্যারা বঞ্চিত :

 কোন পিতার যদি পুত্র সন্তান নাও থাকে তাহলে ঐ  পিতার কন্যাদের মধ্যে যাহারা বন্ধ্যা ও পুত্র সন্তানহীন তাহারা  পিতার সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত হইবে । 


২ । এই খসড়া আইনের পটভূমি : 

বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইনের সাথে সম্পর্ক রেখে হিন্দু নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার ও হিন্দু পুরুষের সম্পত্তিতে অধিকার সমান সমান নিশ্চিত করা । 



৩ । এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্য : 

বিষয়বর্তমান আইনে
প্রস্তাবিত খসড়া আইন  2020 অনুসারে
নারীদের অধিকার
অল্প পরিমাণে ভোগ দখল অধিকার দেওয়া হয়েছে তাও আবার নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে
এক ছেলেও যা পাবে এক মেয়েও তা পাবে
মালিকানার ধরনজীবনস্বত্ব ভোগ দখলের অধিকার পায় কিন্তু বেচতে পারে নাপূর্ণাঙ্গ মালিকানা লাভ করে এবং বেচতে  পারে
 হিজড়াহিন্দু আইনের দৃষ্টিতে কোন অধিকার পায়না
অন্য সন্তানদের মতো হিজলারাও পিতার সম্পত্তিতে সমান অংশীদার হবে । 
দত্তক সন্তানকিছু ক্ষেত্র বিশেষ পেয়ে থাকে
 দত্তক প্রাপ্ত ছেলেও যা পাবে দত্তক প্রাপ্ত মেয়েও তা পাবে । 

গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলি :

অধিকারের ক্ষেত্রে ছেলে ও  মেয়ের সমতা : 

 পিতা ও মাতার মৃত্যু হলে তাদের সম্পত্তিতে সকল সন্তানেরা সমপরিমাণে সম্পত্তি পাবে অর্থাৎ এক পুত্র যা পাবে এক কন্যা ও তা পাবে।

স্বামী স্ত্রী উভয় উভয়ের সম্পত্তি সমপরিমাণ পাইবে :

  স্বামী মৃত্যু হলে স্বামীর সম্পত্তি থেকে স্ত্রী যতটুকু সম্পত্তি পাবে আবার স্ত্রী মৃত্যু হলে স্বামী ও স্ত্রীর  সম্পত্তিতে কতটুকু পাবে অর্থাৎ স্বামী স্ত্রী উভয় উভয়ের সম্পত্তিতে সমপরিমাণে পাইবে । 

শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারী সন্তানেরা  সমতার ভিত্তিতে পৈত্রিক সম্পত্তি পাইবে :


 শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারী সন্তানেরা পরিবারের অন্যান্য সন্তানের মত পিতার সম্পত্তিতে অংশ পাইবে । 

 সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের পূর্ণাঙ্গ মালিকা না লাভ :


পিতা মাতা হইতে  উত্তরাধিকার হিসেবে প্রাপ্ত হইয়া সম্পত্তি পুত্র সন্তানে যেভাবে বিক্রি করতে পারে ঠিক একই ভাবে কন্যা সন্তানও সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে পারিবে । 

৪ । প্রস্তাবিত খসড়া আইনের উপকার : 



উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে নারীর পূর্ণাঙ্গ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হলে আর্থিকভাবে নারীরা অনেকটা সাবলম্বী হবে । 

বিধবা ও স্বামী ছাড়া মহিলারা অনেকটা কষ্টহীন জীবন যাপন বা অসহায়ত্ব জীবনযাপন থেকে রক্ষা পাবে ।  

৫ । বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষের মতামত :

 

: সমাজের অনেক প্রগতিশীল মানুষ ও সচেতন মানুষ মনে করে বর্তমান সমাজ প্রেক্ষাপটে  এই খসড়া আইনটি  খুবই প্রয়োজন । 

আবার হিন্দু সমাজের একাংশের লোকজন মনে করে এই আইনটি বাস্তবায়ন হলে হিন্দুদের অনেক নিয়ম কানুন এ পরিবর্তন আসবে। 

বাস্তব অভিজ্ঞতা :

 আমি আমার বাস্তব জীবনে দেখেছি যে ,   মডেলগঞ্জ উপজেলার   কালাচাঁদের দাইড গ্রামের বাসিন্দা মৃত :  অতুল বিশ্বাসের ওয়ারিশ থাকে এক পুত্র  , দুই কন্যা অতুল বিশ্বাসের সম্পত্তি থাকে ৫00 শতক উক্ত সম্পত্তিতে কে কতটুকু পাইবে ? 

 অতুল বিশ্বাসের পুত্র একাই  ৫00 শতক সম্পত্তি পেয়েছে  | 

পুত্র থাকায় দুই কন্যা বঞ্চিত হয়েছে | 

 কিন্তু অতুল বিশ্বাসের দুটো মেয়ের মধ্যে একটা মেয়ে  স্বামী পরিত্যাক্তা বন্ধ্যা    এই মেয়েটির   নাম  চক্করি স্বামী পরিত্যাক্ত হয়ে যখন বাবার বাড়িতে আসে তখন তার পিতা বেঁচে নেই আর যেহেতু ভাই আছে সেহেতু তিনি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয় তার ভাই এবং ভাইয়ের সন্তানেরা চক্করি কোন খোঁজ খবর নেয় না  মানুষের বাড়িতে কাজ করে খেয়ে পড়ে বেঁচে ছিল  | কিন্তু এক পর্যায়ে  চক্করি বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন তিনি আর মানুষের বাড়িতে কাজ করতে পারেনা তখন তিনি মানুষের কাছে হাত পেতে বা ভিক্ষা করে খায় যদি খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন ২০২০ বাস্তবায়ন হতো তাহলে  চক্করি মত অনেক হিন্দু  নিঃসন্তানি স্বামী পরিত্যাক্ত কে শেষ জীবনে অসহায়ের মতো জীবন যাপন করতে হতো না | 


Post a Comment

Previous Post Next Post