হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ১৯৩৭: নারীর সম্পত্তির অধিকার ও আইনি নিয়ম


হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ১৯৩৭: নারীর সম্পত্তির অধিকার ও আইনি নিয়ম



 ১৯৩৭ সালের আগে হিন্দুদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা বা প্রথা অনুসারে পুরুষেরাই জমি জমার উত্তরাধিকারী হত কিন্তু ১৯৩৭ সালের হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন মতে নারীরাও সম্পত্তিতে একটা অংশ পায় ।

এই আইনের প্রধান নিয়ম  বিধবার জায়গা জমি পাওয়ার অধিকার : 

১  । এক পুত্র সন্তানের সমপরিমাণ সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার

কোন হিন্দু ব্যক্তি মারা গেলে তাহার সম্পত্তিতে তা:হার এক পুত্র যে পরিমাণে  পৈত্রিক সম্পত্তি পাইবে তাহার সমপরিমাণে সম্পত্তি ঐ মৃত :  ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী ও পাইবে ।

২ । পূর্ব মৃত  ; ছেলের বিধবা স্ত্রীর অধিকার : 

বাবা মারা যাওয়ার পূর্বে যদি ছেলে মারা যায় ঐ  ছেলের বিধবা স্ত্রী শ্বশুরের সম্পত্তিতে তটুকু সম্পত্তি পাইবে যতটুকু পরিমাণ  সম্পত্তি শশুরের এক পুত্র পায়  ।

৩ । কৃষি কাজের জমি ও অকৃষিকাজের   জমি  :

  উচ্চতর আদালত যে রায় দেয় সে মতে একজন বিধবা মহিলা তাহার স্বামীর কৃষিকাজ এর জমি ও  অকৃষি কাজের জমি  উভয় ধরনের জমি  পাইবে ।

জীবনী স্বত্ব  :

 একজন বিধবা নারী মূলত স্বামী হইতে যে সম্পত্তি পায় তাহাই জীবনী স্বত্ব ।

 এই জীবনী স্বত্ব এর  সম্পত্তি বিধবা মহিলা যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন ভোগ দখল করিতে পারবেন  ।

কিন্তু এই  জীবনী স্বত্ব এর  জমি জমা ঐ  বিধবা মহিলা বেচতে পারিবে না  । 


আবার ঐ  বিধবা মহিলা মৃত্যুর পরে তাহার জীবনী স্বত্ব এর  জমি জমা তাহার স্বামীর নিজ গোত্রে চলে যাবে।

যে যে কারণে একজন বিধবা মহিলা তার স্বামীর সম্পত্তি পায় না : 

অবার নতুন করে বিয়ে বসলে

স্বামী মৃত্যুর পরে বিধবা মহিলা আবার নতুন করে অন্য কোন জায়গায় বিবাহ বসলে পূর্বের স্বামীর সম্পত্তি হইতে ঐ বিধবা মহিলা বঞ্চিত হইবে  ।

ধর্মান্তরিত হইলে  :

 কোন বিধবা মহিলা তার স্বামী মৃত্যুর পরে তিনি যদি অন্য কোন ধর্ম গ্রহণ করে তাহলে ঐ  মৃত্যু স্বামীর সম্পত্তি হইতে ঐ  বিধবা মহিলা বঞ্চিত হইবে ।

মেয়ে সন্তানদের সম্পত্তিতে অধিকার : 

তবে প্রচুর পরিমাণ মানুষ জানতে চায় ১৯৩৭ সালের আইনে মেয়ে সন্তানদের পিতার জমিজমায় কতটুকু অধিকার দিয়েছে তাহা ,  কিন্তু বাস্তবে ১৯৩৭ সালের আইনটি প্রধানত বিধবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য করা হয়েছে  , তবে  দায় ভাগা মতে মেয়েদেরঅধিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো । 

 ছেলে সন্তান থাকলে  মেয়েরা বাবার সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত হয়  ।  ছেলে সন্তান না থাকলে মেয়েরা বাবার সম্পত্তি পায় তবে প্রথমত অবিবাহিত কন্যারা বিয়ের আগ পর্যন্ত বাবার সম্পত্তি হইতে ভরণ পোষণ ও বিবাহের খরচ পায় ।  এরপরে পুত্র আছে এমন কন্যা গন ও পুত্র সন্তান সম্ভাবনাময় মেয়েরা বাবার সম্পত্তি পায় । তবে মেয়েরা  বাবার জমি জমা সর্বদাই জীবনী স্বত্ব হিসেবে পায়  ।   কিন্তু বন্ধ্যা ও পুত্রহীন কন্যাগণ পিতা সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত হয় ।  প্রকৃতপক্ষে কন্যার পুত্র বা দৌহিত্র এরাই সম্পত্তির প্রকৃত মালিক হয় ।

বাস্তব অভিজ্ঞতা  :  

রামপাল উপজেলার  বেতকাটা গ্রামের বাসিন্দা অনিল বিশ্বাসের মৃত্যু আনতে  ৬০০  শতক জমি রেখে যান । উক্ত অনিল বিশ্বাস এর মৃত্যু আনতে তাহার ওয়ারিশ থাকে এক স্ত্রী ,  দুই পুত্র  ,এক কন্যা উক্ত সম্পত্তিতে কে কতটুকু জমি পাইবে ?

 এক পুত্র পায় ২০০ শতক  ( একত্রে দুই পুত্র পায় ৪০০  শতক ) । 

জীবনী স্বত্ব হিসেবে এক স্ত্রী পায় ২০০ শতক ।  

 পুত্র থাকায় কন্যা বঞ্চিত হয়। 

এক পর্যায়ে দেখা যায় উক্ত অনিল বিশ্বাসের পুত্রগণ তাহার মায়ের কোন খোঁজ খবর নেয় না। তাহার মা ২০০  শতক জমি তে অন্য মানুষ দিয়ে  কৃষিকাজ করিয়ে যে ফসল পায় তা দিয়ে জীবন যাপন করে  ।  যদি ১৯৩৭ সালের হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন বাস্তবায়ন না হত তাহলে অনিল বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রীর মত অনেক বিধবা অসহায় হয়ে যেত। তাই উক্ত আইনটি বিধবা মহিলাদের  বাস্তব জীবনে  খেয়ে  পরে  বাঁচার জন্য অত্যন্ত কার্যকর । 



Post a Comment

Previous Post Next Post