বাপ দাদার সম্পত্তি বের করার নিয়ম




বাপ দাদার সম্পত্তি বের করার নিয়ম

আপনি আপনার ঘরে বসে  বাপ দাদার সম্পত্তি বের করার নিয়ম যেমন , মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমি সেবার মাধ্যমে বা অফলাইনে ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন অফিস বা এসিল্যান্ড অফিসের তল্লাশি দিয়ে বাপ-দাদার জমি সম্পর্কে জানতে পারবেন । 

১ । অনলাইনে বাপ দাদার জমি খোজার নিয়ম নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো :

প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ : 

প্রথমে আপনাকে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে বা মোবাইল দিয়ে land .gov .bd তে প্রবেশ করতে হবে | 

তারপরে খতিয়ান খোজা অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে | 

দ্বিতীয়ত জমি যে এলাকায় ঐ  এলাকার সম্পর্কে তথ্য দিন : 

আপনার বাপ দাদার জমি যে এলাকায় ঐ  এলাকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন । 

  •  বিভাগের নাম । 
  •  জেলার নাম । 
  •  উপজেলার নাম । 
  •  মৌজার নাম ও নাম্বার । 

তৃতীয়ত খতিয়ানের নাম্বার বা মালিকের নাম দিয়ে খোঁজা : 

জমির মালিকের নাম দিয়ে খোঁজা : 

জমির পর্চায় আপনার বাপ দাদার যে নাম দেওয়া আছে ঐ নাম দিয়ে খুঁজুন । 

কোন খতিয়ান তা নির্বাচন করুন :

 বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান আছে যেমন  ,

  • সিএস খতিয়ান  ।
  • আর এস খতিয়ান । 
  •  এস এ খতিয়ান । 
  •  বি আর এস খতিয়ান । 

 এর মধ্যে কোন খতিয়ানে আপনার বাপ দাদার জমি তা নির্বাচন করুন । 

খোঁজার জন্য চেষ্টা করুন : 

বোতামে ক্লিক করলে ঐ   মৌজায়  থাকা আপনার বাপ দাদার নামের সাথে মিল আছে এমন নামের মালিকানাধীন সকল খতিয়ানের জমি চলে আসবে এর মধ্যে থেকে আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে যে  বর্তমানে কোন খতিয়ানে আপনার বাপ দাদার জমি আছে । 

২ । বাপ দাদার জমি খোজার জন্য দরকারি খতিয়ানের পরিচয়  : 

সি এস খতিয়ান  :

 ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা যখন  শাসন করতো তখন ব্রিটিশ সরকার ভারতী উপমহাদেশের জমি জমামাপার জন্য এই জরিপ করে এই জরিপ কে  জমিজমার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় ।


এস এ খতিয়ান  : 

১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলোপ সাধন করে জমিতে প্রজাদের সত্য স্বীকার করে পাকিস্তান আমলে এই জরিপ করা হয়ে থাকে । 


আর এস খতিয়ান  : 

পাকিস্তান আমলে এস এ পর্চা ভুল ত্রুটি সংশোধন করে প্রস্তুত করা একটি খতিয়ান । 


বি আর এস  /  সিটি জরিফ  : 

 বাংলাদেশ সরকারের আমলে চলমান আধুনিক জরিফ । 

৩ । বাপ দাদার জমি সম্পর্কে জানার জন্য অফলাইনে ভূমি অফিসে গিয়ে খোজা : 

জেলা রেকর্ড রুম :  

প্রত্যেক জেলায় জেলা ডিসি সাহেবের অধীনে একটি রেকর্ডরুম আছে ঐ  রুমে  জেলার সকল জরিপের কাগজপত্র আছে তাই আপনাকে  জেলা রেকর্ডরুমে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লার্ক বা লিপিকারক এর সহযোগিতায় নিয়ে বাপ দাদার জমি কোন খতিয়ানের কোন দাগে   আছে তা তল্লাশি করে দেখতে হবে । 

 এসিল্যান্ড অফিসে খোজা : 

আপনার উপজেলায়  যে এসি ল্যান্ড অফিস আছে ঐ  অফিসে গিয়ে বাপ দাদার জমি তল্লাশি করে দেখতে পারেন যে কোন খতিয়ানের কোন দাগে আছে আপনার বাপ দাদার জমি । 

 ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন অফিস এ খোঁজা : 

 আপনার ইউনিয়নে একটি ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন অফিস আছে ঐ অফিসে গিয়ে নায়েবের সহযোগিতায় সরকারি বালা  রেজিস্টার - ২ যে খাতায় খাজনা নেওয়া হয় ঐ  খাতায় খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন যে আপনার বাপ দাদার জমি কোন খতিয়ানের কোন দাগে   আছে তাহ । 

৪ । বাপ দাদার জমি বের করতে যে সকল তথ্য জানা দরকার ; 

মৌজার নাম ও নাম্বার  : 

বাপ দাদার জমি বের করতে হলে আপনাকে সঠিকভাবে জমি যে এলাকায় ঐ  এলাকার মৌজার নাম ও নাম্বার জানতে হবে । 

বাপ দাদার সঠিক নাম ও তাদের পিতার সঠিক নাম   : 

বাপ দাদার জমি বের করতে হলে বাপ দাদার সঠিক নাম ও তাদের সঠিক পিতার নাম অবশ্যই জানতে হবে তা না হলে জমি বের করতে পারবেন না । 

 জমির দাগ নাম্বার বা জমি যে  জায়গায় আছে তার আশেপাশের জমির দাগ নাম্বার ।

৫ । বাপ দাদার জমি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়ার পরে আপনার করণীয় কাজ ; 

 সই মহর কপি তুলতে হবে : 

জেলা রেকর্ড রুম থেকে উক্ত খতিয়ানের সই মহর কপি তুলতে হবে । 

ওয়ারিশ সনদপত্র সংগ্রহ  :

 স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র এর নিকট হইতে স্মারক সম্মিলিত  ওয়ারিস সনদ পত্র সংগ্রহ করতে হবে  । 

নাম পত্তন  :

 উক্ত জমিতে পূর্ব পুরুষের নাম কর্তন করে সরকারি  রেকর্ড বইয়ে আপনার নিজ নামে রেকর্ড লেখাতে হবে আর এই প্রক্রিয়াকে নাম পত্তন বলে । 

 খাজনা পরিষদ :

 নাম পত্তন করার পরে প্রতিবছর আপনার জমির খাজনা পরিশোধ করুন । 

বাপ দাদার জমি খোজার বাস্তব অভিজ্ঞতা  :

 আমার দাদার নামে একটি জমি আছে কিন্তু ঐ  জমির  বি আর এস পর্চা আমার কাছে নেই আর জমির দখল আমাদের কাছে নেই আমি জমির কোন হদিস পাচ্ছিনা । আমার দাদার নামীয় ঐ  জমির পর্চা আমার এক চাচা লুকিয়ে রেখেছে এবং গোপনে তিনি ঐ  সম্পত্তি একাই ভোগ করতেছে তখন আমি ঐ  জমি যে এলাকায় ঐ  এলাকার ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন অফিসে গিয়ে নায়ের এর  সহযোগিতা নিয়ে বিআরএস খতিয়ানে আমার দাদার নাম দিয়ে তল্লাশি দেই তল্লাশি দিয়ে  উক্ত জমির বিআরএস খতিয়ান  পেয়ে যাই এবং উক্ত খতিয়ানের একটা সইমহর কপি সংগ্রহ করি এবং ওয়ারিশ পত্র সংগ্রহ করে   অংশ মোতাবেক নিজ নামে  নাম পত্তন করি তারপরে উক্ত জমিতে নিজ নামে খাজনা দেই এবং তারপরে জমির দখলে যাই  । 

Rules-for-finding-out-ancestral-property Rules-for-finding-out-ance

stral-property


Post a Comment

Previous Post Next Post