বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক সম্পত্তি বন্টন হয় মূলত ১৯৬১ সালের পারিবারিক আইন ও মুসলিম ফারায়েজ অনুযায়ী ।
সম্পত্তি বন্টনের নিয়ম :
কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তি হইতে চারটি কাজ আগে করতে হবে :
১. নম্বরে : দাফন কাফনের খরচ পরিশোধ করতে হবে ।
২. নম্বরে : দেনা পরিষদ করতে হবে ।
৩. নম্বরে : বৈধ ওয়াসিয়াত পূরণ করতে হবে ।
৪. নম্বরে : স্ত্রীর দেন মোহরানা পরিষদ না করা হইলে পরিশোধ করতে হবে ।
উক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার পরে মৃত্যু ব্যক্তির যে সম্পত্তি থাকবে তাহা তার ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন করে দিতে হবে
প্রধান ওয়ারেশ গণ এর নাম :
এক নম্বরে স্ত্রী :
স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রী ১/৮ একাংশ পাইবে আর যদি সন্তান না থাকে তাহা হইলে ১ /৪ একাংশ পাইবে ।
দুই নাম্বারে স্বামী :
কোন স্ত্রী মারা গেলে তাহার স্বামী মোট সম্পত্তির ১/৪ একাংশ পাইবে , আবার নিঃসন্তানি হইলে ১/২ একাংশ পাইবে ।
তিন নাম্বারে পুত্র :
পুত্র যদি একজন হয় তবে তিনি অবশিষ্ট সম্পত্তি সবটাই একা পাইবে , আবার যদি পুত্র একাধিক হয় তবে ও তাহারা সব সময় অবশিষ্ট ভোগী হইবে অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাহা সকল পুত্রগণে সমানভাবে ভাগ পাইবে ।
চার নম্বরে কন্যা :
এক কন্যা হইলে মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাইবে , তবে একাধিক কন্যা হইলে মোট সম্পত্তির ২/৩অংশ সকল কন্যাগণ সমানভাবে পাইবে , আবার ভাইদের সাথে বোনরাও যদি অংশীদার হয় তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তিতে ভাই ও বোন যথাক্রমে ২: ১ অনুপাতে পাইবে ।
পাঁচ নাম্বারে পিতা ও মাতা :
সন্তান থাকলে
মাতা পাইবে১/৬ এক অংশ ।
পিতা পাইবে ১/৬এক অংশ ক্ষেত্র বিশেষ অবশিষ্ট ভুগি
সন্তান না থাকলে
মাতা পাইবে ১/৩ এক অংশ ।
পিতা পাইবে ১/৬ এর এক অংশ + অবশিষ্ট ভুগি।
ছয় নাম্বারে ভাই ও বোন :
পিতা ও পুত্র সন্তান থাকলে ভাই ও বোন বঞ্চিত হয় , তবে এরা না থাকলে ভাই ও বোন সম্পত্তিতে অবশিষ্ট ভুগি হবে , এক্ষেত্রে মোট অবশিষ্ট সম্পত্তিতে ভাই ও বোন যথাক্রমে ২: ১ অনুপাতে পাইবে ।