স্ত্রীধন হিন্দু সমাজের এক অভিনব ব্যবস্থা , মহিলাদের সম্পত্তিতে দুই রকমের স্বত্ব দেখা যায় একটি হচ্ছে সীমিত স্বত্ব , যেমন আজীবন ভোগ করার অধিকার , অপরটি হচ্ছে নিরঙ্কুশ স্বত্ব যেমন , বিক্রি , দান বা ইচ্ছামত হস্তান্তর করার অধিকার , প্রথমটি হচ্ছে নারী সম্পত্তি এবংঅপরটি হচ্ছে স্ত্রীধন অতি প্রাচীন কাল থেকেই হিন্দু সমাজে স্ত্রীধনের অস্তিত্ব দেখা যায় , বিভিন্ন আর্য ঋষিগণ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন ভাষ্যকার এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন মনু ও কাতায়নের মতে বিয়ে অনুষ্ঠানে সময় স্নেহ ও ভালোবাসার নির্দেশনা স্বরূপ বাবা ও মা যা দান করেন তাই ঐ মেয়ের স্ত্রীধন ।
অতএব দেখা যায় যে ,
১ । কুমারী অবস্থায় উত্তর অধিকার সূত্র ব্যতীত অন্যভাবে প্রাপ্ত সম্পত্তি স্ত্রীধন।
২ । বৈধব্য অবস্থায় উত্তর অধিকার সূত্র ব্যতীত অন্যভাবে অর্জিত সম্পত্তি স্ত্রীধন ।
৩ । বিবাহিত অবস্থায় উত্তর অধিকার সূত্র ব্যতীত অন্যভাবে অর্জিত সম্পত্তি তার স্ত্রীধন তবে দায়ভাগা মতে বিবাহিত অবস্থায় আত্মীয়র , ব্যক্তির নিকট হতে দান সূত্রে কোন কিছু পেলে স্বামীর নিকট হতে দান সূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পেলে অথবা শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিত কাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধন হিসেবে গণ্য হবে , স্বামীর মৃত্যুর পর ঐ সম্পত্তির পূর্ণ স্ত্রী ধন রূপে গণ্য হবে ।
৪ । কোন মহিলার ভরণ - পোষনের জন্য মাসোহারা বাবদ কোন অর্থ বা সম্পত্তি দেয়া হলে তা স্ত্রীধন ।
৫ । স্ত্রীধন দ্বারা অর্জিত সম্পত্তি ও স্ত্রীধন ।
৬ । জবরদখল দ্বারা কোন মহিলা সম্পত্তি অর্জন করলে তাও স্ত্রী ধন ।
স্ত্রীধনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে , কোন মহিলার স্ত্রীধন রেখে মারা গেলে ঐ সম্পত্তি তার নিজস্ব উত্তরাধিকারীদের উপর বর্তায় অসতীত্বের কারণে একজন মহিলা কোন পুরুষের উত্তরাধিকার হতে পারে না , কিন্তু এ কারণে কোন মহিলার উত্তর অধিকারি হতে অসুবিধা নেই , ,তাই একজন মহিলার মৃত্যু হলে তার স্ত্রী ধরে তার অসতী কন্যা ও তার অধিকার লাভ করে ।