সাধারণভাবে আইন বলতে আচরণবিধি বুঝয় যা সার্বভৌম কর্তৃক বলবৎ করা হয় , ইসলামী দৃষ্টিতে এর অর্থ ভিন্নতর , মানুষের তৈরি আইন ইসলামী আইনে স্বীকার করে না , ইসলামী আইনকে শরীয়ত বলা হয়। , শরীয়ত শব্দের অর্থ হচ্ছে পানির সন্ধান দানকারী , যে বিশেষ অর্থে ইসলামী দৃষ্টিতে ইহা ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা হল আল্লাহর নির্দেশিত পথ , অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমে হচ্ছে আইন প্রকৃতপক্ষে ইসলামী মত অনুযায়ী মূলত পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আল্লাহর হুকুমসমূহ এবং রাসুলের নির্দেশিত আইন হচ্ছে মুসলিম আইন ।
স্যার আব্দুর রহিমের মতে , একজন মুসলমানের ধর্ম কিংবা নৈতিকতা বোধ যা স্বয়ং আল্লাহর নিকটহইতে নাযিল হয়েছে ।
মুসলিম আইন বিশারদ কুলসনের ভাষায় আল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রকাশই হচ্ছে মুসলিম আইন যা মুসলিম সমাজের নিয়ন্ত্রক এবং ইসলামী রাষ্ট্রের দিক নির্দেশক ।
মুসলিম আইনের বৈশিষ্ট্য :
ইসলামি আইনের বৈশিষ্ট্য নিম্নে বর্ণনা করা হইল ।
১ । মানুষের ব্যক্তিগত রাষ্ট্রীয় সামাজিক সকল জীবনের সকল প্রকার কর্মকাণ্ডে মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশকে এবং রসূলের আদর্শকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই ইসলামী আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই আইন ধর্মনির্বশীল এবং নৈতিক ভিত্তিক ।
২ । আল্লাহ তাআলার আনুগত্য স্বীকার করা এবং কোরআন ও সুন্নতের নির্দেশনা বলি পালনে মানুষকে বাধ্য করে এই আইন ।
৩ । কোরআন ও সুন্নতের পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়নের সুযোগ এই ইসলামী আইনে নেই ।
৪ । নির্দেশ পালনের জন্য পুরস্কার এবং এই আইন অমান্য কারীদের জন্য শাস্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে , যা পরলোকে বাস্তবায়িত হবে বলে বিশ্বাস করা হয় তাই বিশ্বাসীদের কে গোপনে অপরাধ করতে নির উৎসাহিত করে এবং সৎ ও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করে।
৫ । মানুষের বাস্তব জীবনের সার্বিক আচরণবিধি এই আইনে নির্দেশিত হয়েছে তাই এই আইনটি মানব জীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা স্বরূপ ।
ইসলামি আইন ও মানব রচিত আইন এর মধ্যে পার্থক্য:
১ । ইসলামী আইন হল ঐশী বাণী বা আল্লাহ নির্দেশিত ও রাসূলের উপদেশ ছাড়া মানুষ তৈরি আইনের কোন স্বীকৃতি এতে নেই । কিন্তু আধুনিক আইন ধর্মনিরপেক্ষ মানব সমাজে প্রচলিত সকল আইনি এর বিষয়বস্তু , কাজেই এখানে আইন হচ্ছে মানব সৃষ্ট ।
২ । ইসলামী আইনে নৈতিক বিধি-বিধান ও আইনগত বিধানের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না কেননা ইহা আল্লাহর আদেশ তথা ধর্ম ও ন্যায়নীতির উপর বৃত্তিশীল । অপরপক্ষে আধুনিক আইন নৈতিক বিধান ও আইনগত বিধানের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে এখানে শুধু আইনগত বিধানি গ্রহণযোগ্য , তাই আধুনিক আইনবিজ্ঞান প্রার্থীৱ আইন ও দর্শন ভিত্তিক ।
৩ । ইসলামী আইন বিজ্ঞানের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সুখ শান্তির বিধান করা । পক্ষান্তরে আধুনিক আইন তত্ত্বের উদ্দেশ্য হচ্ছে সামাজিক সুশৃঙ্খলা বিধান যাহা সম্পূর্ণরূপে ইহ লৌকিক ।
৪ । ইসলামী আইন সামাজিক মূল্যবোধের উপর নির্ভর করে না , তাই এই আইনের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন কিংবা বাতিল করা সম্ভব না , কিন্তু ইসলামী আইন বিষধর গণ এর ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারেন । পক্ষান্তরে আধুনিক আইন সামাজিক মূল্যবোধের উপর নির্ভরশীল বিধায় ইহা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন বা বাতিলযোগ্য ।
৫ । আধুনিক আইনের বিধান ভঙ্গ করলে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করার ব্যবস্থা আছে । কিন্তু ইসলামী আইনের বিধিবিধান ভঙ্গ করলে পরলৌকিক শাস্তির ভয় আছে ।
৬ । ইসলামী আইন কোন রাষ্ট্রীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না সমগ্র মানব সমাজের জন্য ইহা প্রয়োজন । কিন্তু আধুনিক আইন নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে ।
