মুসলিম সম্পত্তি বন্টন আইন একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক ব্যবস্থা যা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তার বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেমন করে বন্টন করা হবে তা এই আইনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে ।
সম্পত্তি বন্টনের পূর্ব শর্ত : উত্তরাধিকারীদের মাঝে সম্পত্তি বন্টনের আগে মৃত্যু ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে তিনটি কাজ আগে করতে হবে ।
১ । নাম্বারে দাফন কাফন এর ব্যয় :
মৃত্যু ব্যক্তির মোট সম্পদ হইতে তার দাফন কাফনের খরচ বাদ দিতে হবে |
২ । নাম্বারে ঋণ পরিশোধ :
মৃত্যু ব্যক্তি যদি কোন ঋণ থাকে তাহা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করতে হবে |
৩ । নম্বরে উইল কার্যকর : মৃত্যু ব্যক্তি যদি কোন উইল করে যান তবে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি হইতে তা বাদ দিতে হবে , তবে কথা আছে এই যে , উইলের সম্পত্তি রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১ / ৩ একাংশ এর বেশি হতে পারবে না , আবার উইলের সম্পত্তি ১ / ৩ একাংশ এর বেশি হলে উত্তার অধিকারীদের সম্মতি প্রয়োজন ।
উত্তরাধিকারীদের শ্রেণীবিভাগ : মুসলিম আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের প্রধানত তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে নিম্নে এ সম্পর্কে বর্ণনা করা হইল
প্রথমত অংশীদার : পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ১২ জনকে নিরাশযোগ্য সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন , এইজন্য এই ১২ জনকে কুরআনী অংশীদার বলা হয় , এদের কখনো শেয়ার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না , এদের মধ্যে ৮ জন মহিলা ও চারজন পুরুষ |
যেমন ,
১ । পিতা |
২ । মাতা |
৩ । পূর্ণ বোন |
৪ । সত্য পিতামহ |
৫ । সত্য মাতামহি |
৬ । বৈমাত্রেয় বোন |
৭ । স্বামী |
৮ । কন্যা |
৯ । বৈপিত্রেয় ভাই |
১০ । বৈপিত্রেয় বোন |
১১ । স্ত্রী |
১২ । পুত্রের কন্যা |
দ্বিতীয়ত অবশিষ্ট ভুগি : যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারগণের নির্দিষ্ট অংশ নেওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ প্রাপ্ত হন তাদেরকে অবশিষ্ট ভোগী বলা হয়ে থাকে , অবশিষ্ট ভোগী ১৮ জন ,
যেমন ,
১ । পুত্র |
২ । পুত্রের পুত্র |
৩ পিতা |
৪ । পিতার পিতা |
৫ । পিতার সহোদর ভাই ।
৬ । সহোদর বোন |
৭ । বৈমাত্রেয় ভাই |
৮ । বৈমাত্রেয় বোন |
৯ । সহোদর ভাইয়ের পুত্র |
১০ । বৈমাত্রেয় ভাইয়ের পুত্র |
১১ । সহোদর ভাইয়ের পুত্রের পুত্র |
১২ । বৈমাত্র ভাইয়ের পুত্রের পুত্র |
১৩ । সহধর চাচা |
১৪ । বৈমাত্র চাচা |
১৫ । সহোদর চাচার পুত্র |
১৬ । বৈমাত্র চাচার পুত্র |
১৭ । সহদার চাচার পুত্রের পুত্র |
১৮ । বৈমাত্র চাচার পুত্রের পুত্র |
তৃতীয়ত দূরবর্তী আত্মীয় গণ : অংশীদার আছে কিন্তু অবশিষ্ট ভোগী নাই তখন দূরবর্তী আত্মীয়রা সম্পত্তি পাইবে ।
প্রধান অংশীদার গণ :
১ । নম্বরে পিতা পাইবে ১ / ৬ এর একাংশ + অবশিষ্টভোগী ।
২ । নম্বরে মাতা পাইবে ১ / ৬ এর একাংশ ।
৩ । নম্বরে স্বামী ১ / ৪ এর একাংশ পাইবে তবে নি : সন্তানি হলে অর্ধেক পাইবে ।
৪ । নম্বরে স্ত্রী পাইবে ১ / ৮ এর একাংশ নিঃসন্তানি হলে ১ / ৪ এর একাংশ পাইবে ।
৫ । নম্বরে পুত্র সম্পত্তিতে অবশিষ্ট ভোগী হইবে এক পুত্র হইলে তিনি অবশিষ্ট সকল সম্পত্তি পাইবে আবার একাধিক পুত্র হইলে সকল পুত্রগণ অবশিষ্ট সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে লইবে ।
৬ । নাম্বারে কন্যা এক কন্যা হইলে মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাইবে , আবার একের অধিক কন্যা হইলে মোট সম্পত্তির ২ / ৩ এর একাংশ পাইবে উক্ত সম্পত্তি সকল কন্যাগণ সমানভাবে ভাগ করে লইবে , আবার পুত্রের সাথে কন্যাগণ যদি অবশিষ্ট ভোগী হয় তাহলে ২ : ১ অনুপাতে সম্পত্তি পাইবে ।
৭ । নাম্বারে ভাই ও বোন পিতা ও পুত্র থাকলে বঞ্চিত হয় , এরা না থাকলে ভাই ও বোন অবশিষ্টভোগী হয় ।
