হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০২২ বাংলাদেশ




হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০২২ বাংলাদেশ



 বাংলাদেশের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০২২ নামে কোন ধরনের আইন পাস হয়নি তবে ২০২০- ২০২২ সময় হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের জন্য একটি খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তবে তা জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়নি বা আইনে পরিণত হয়নি |

 বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকারী আইন হিসেবে দায়ভাগা মত প্রচলিত আছে  এ প্রচারিত মত অনুযায়ী কোন হিন্দু ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার সম্পত্তির ওয়ারিশদের মধ্যে কিভাবে বন্টন করা হয়ে থাকে তা নিচে আলোচনা করা হলো  । 

১ । নাম্বারে পুত্র ,পৌত্র  ,প্রো পৌত্র  :

 কোন হিন্দু মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে প্রথমে ওয়ারিশ হয় তাহার পুত্র , পুত্র না থাকলে পৌত্র বা নাতি  ,নাতি না থাকলে প্রো পৌত্র  বা পুতি  সম্পত্তির ওয়ারিশ হয় । 

২ ।  নাম্বারে ওয়ারিশ বিধবা স্ত্রী  :  যদি কোন সন্তান না থাকে তাহলে স্বামীর সমস্ত সম্পত্তিতে বিধবা স্ত্রী জীবনী স্বত্ব পায় ,  আবার পুত্র সন্তান থাকলে ১ পুত্র  সন্তানের সমপরিমাণ সম্পত্তি স্ত্রী জীবনী স্বত্ব  হিসেবে পাবে তবে স্ত্রী মৃত্যুর পরে উক্ত সম্পত্তি তাহার স্বামীর  গোত্রে   ফিরে যাবে । 

৩।   নাম্বারে কন্যা সন্তান: 

পুত্র ,পৌত্র  ,প্রো পৌত্র  গণ   বেঁচে থাকলে কন্যা সন্তানরা পিতা সম্পত্তি পায় না  ।  না  থাকলে তবে প্রথমত অবিবাহিত কন্যা গন  বাবার সম্পত্তি পায়  । 

অবিবাহিত কন্যা না থাকলে পুত্র আছে এমন কন্যারা বা পুত্র হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন কন্যারা বাবার সম্পত্তি পায়  । তবে তা  জীবনী স্বত্ব হিসেবে সম্পত্তি  ভোগ দখল করিবে ।

তবে বন্ধা বা পুত্রহীন কন্যারা  বাবার সম্পত্তি পায় না ।


৪  | নাম্বারে ওয়ারিশ কন্যার পুত্র  বা দৌহিত্র  : 

পুত্র ,পৌত্র  ,প্রো পৌত্র  গণ   বেঁচে   না  থাকলে তবে কন্যার পুত্র  বা  দৌহিত্র নানার সম্পত্তি পাইবে এবং নিরঙ্কুশ মালিক হইবে। 

 ৫।  নাম্বারে  অন্যান্য ওয়ারিশ গণ :

  পুত্র ,পৌত্র  ,প্রো পৌত্র  গণ  ও  কন্যার পুত্র  সন্তান দৌহিত্র  বেঁচে   না  থাকলে তবে নিম্নে বর্ণিত  ওয়ারিশ গণ পর্যায়ক্রমে সম্পত্তি পাইবে 

সহোদর ভাই ,  সহোদর ভাই বেঁচে না থাকলে সৎ ভাই ।

 ভাইয়ের পুত্র বা ভাইপো  । 

ভাইয়ের পুত্রের পুত্র  ।

এরা কেউ না থাকলে বোনের পুত্র মামার সম্পত্তি পাইবে ।

উল্লেখ্য উপরে বর্ণিত ওয়ারিশগণ বেঁচে থাকলে নিচে বর্ণিত  ওয়ারিশ গণ বঞ্চিত হয় । 


২০২০-২০২২ সালে যে খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল

 যেমনঃ 

 পুত্র ও কন্যার সমান উত্তর অধিকার নিশ্চিত করা । 

 হিন্দু নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার সমান করা । 

  উত্তর অধিকার ব্যবস্থার চলমান বৈষম্য কমানো  । 

তবে এই খসড়া  টি  আইন হিসেবে পূর্ণতা পায়নি । 


Post a Comment

Previous Post Next Post